“ভয়”কে আর ভয় না পেতে মেনে চলুন এই নিয়মগুলি!

এই দুটি শব্দের কারণে কত জনের যে জীবন যে দুর্বিসহ হয়ে উঠছে তা গুনে শেষ করা যাবে না। একাধিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভয় বা অ্যাংজাইটির কারণে গত এক দশকে একাধিক রোগের প্রকোপ মারাত্মক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে এই সব রোগ সম্পর্কিত মৃত্যুর হারও। এখন তো পরিস্থিতি এমন জয়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে প্রতি ৪ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১ জন ভয় বা অ্যাংজাইটিরপ শিকার হচ্ছেন। তাই তো বলতেই হয় যে, এখন থেকেই যদি ভয়কে শরীর থেকে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে আগামী দিনে কিন্তু বিপদ আরও বাড়বে!

আমরা যে কিসে ভয় পাবো, তা আগে থেকে জেনে যাওয়া একেবারেই সম্ভব নয়। তাই তো এক্ষেত্রে পূর্ব প্রস্তুতির কোনও সুযোগই থাকে না। তবে বেশ কিছু সহজ নিয়ম আছে, যা মেনে চললে ভয়কে পিছনে ফেলে সুন্দর জীবন পেতে কোনও বাঁধাই পেতে হয় না। তাই সিদ্ধান্ত আপনার, সারা জীবন যদি ভয়ে ভয়ে বাঁচতে না চান, তাহলে এই প্রবন্ধিটি একবার পড়ে ফেলা মাস্ট! কী কী নিয়ম মেনে চললে এক্ষেত্রে দারুন উপকার পাওয়া যায়? চলুন জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে।

১. ভয়কে চিনুন: নিজের প্রতিপক্ষকে যত চিনবেন, তত তাড়াতাড়ি তাকে হারাতে পারবেন। তাই কিসে আপনি ভয় পান সে সম্পর্কে জানাটা একান্ত প্রয়োজন। সেই সঙ্গে একথা বুঝতে হবে যে ভয় বা অ্যাংজাইটির কারণে আমাদের কোনও ভাল হয় না বরং পেটের রোগ, ক্রনিক শ্বাস কষ্ট, হার্টের রোগ এবং রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার মতো রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। আর একথা তো বলে দিতে হবে না যে এই সব রোগগুলির মধ্যে বেশিরভাগই কিন্তু মারণ রোগ। তাই সাবধান! বুকের ভিতরে ঘর বেঁধে থাকা ভয় নামক কাল নাগিনটিকে আজই মেরে ফেলুন। কীভাবে করবেন সে কাজটা? এক্ষেত্রে সচেতনতাই আপনার প্রথম হাতিয়ার হতে পারে।

২. ভয়কে চিহ্নিত করুন: আপনি কেন ভয় পান? কখনও অফিসের কাজ ভুল হয়ে যাওয়ার ভয় তো, কখনও প্রিয়জনদের হারানোর ভয়। আবার কখন জীবনযুদ্ধে হেরে যাওয়ার ভয়। এমন নানা ধরনের ভয়ের করণে আমাদের মন এবং শরীর সব সময়ই যেন কুঁকড়ে থাকে। আর এমনটা দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে শরীরের উপর নেতীবাচক প্রভাব পরতে শুরু করে। তাই কী কারণে ভয় পাচ্ছেন সেটি জানা খুব দরকার। একবার সে সম্পর্কে জেনে গেলে দেখবেন আপনি নিজের মনতে বোঝানোর সুযোগ পেয়ে যাবেন। প্রয়োজনে যে কারণে ভয় পাচ্ছেন তা থেকে নিজেকে দূরে রেখে শান্তিতে জীবন কাটাতে পারবেন। প্রসঙ্গত, অনেক সময় নিজের থেকে ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে চিকিৎসেকর পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

৩. বর্তমানে বাঁচুন: আমাদের মধ্যে অনেকেই ভবিষ্য়ত নিয়ে খুব চিন্তায় থাকেন। সেই চিন্তা কখন যে দুঃচিন্তায় এবং ধীরে ধীরে অ্যাংজাইটি বা ভয়ের আকার নেয়, আমরা তা বুঝে উঠতেও পারি না। তাই বর্তমানে বাঁচুন। এখন যেটা হাতে আছে, সেটা নিয়ে ভাবুন। ভুলে যাবেন না বুদ্ধের সেই বাণী, “অতীতে নিয়ে ভাববেন না, না ভাববেন ভবিষ্য়ত নিয়ে। বরং মনোযোগ দিয়ে বর্তমানকে আঁকড়ে ধরুন। দেখবেন তাতে সুখ মিলবে বেশি।” গৌতম বুদ্ধের এই কথাগুলি প্রতিনিয়ত মনে মনে বলতে থাকুন। কিছুতে ভয় লাগলেই মনের কথা পরিবারের বাকি সদস্য়দের সঙ্গে বা বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিন। আর যদি এমনটা করতে মন না চায়, তাহলে ভগবানের নাম নিন। বই পড়ুন বা পছন্দের কাজে নিজেকে ব্যস্ত করে তুলুন। তাহলেই দেখবেন ভয় আর আপনার মনকে বসে আনতে পারবে না।

৪.ই এফ টি: ভয়কে হারাতে প্রাচীন এই পদ্ধতিটির সাহায্য নিতে পারেন। কী এই ই এফ টি? ই এফ টি-এর পুরো নাম হল “ইমোশনাল ফ্রিডম টেকনিক”। যখনই মনে হবে ভয় লাগছে, তখনই আঙুলের ডগা দিয়ে শরীরে বিশেষ কিছু জয়গা, যেমন- মাথার মাঝখানে, ভুরুর উপরে, চোখের পাশে, চোখের তলায়, নাকের নিচে, থুতনিতে, কলার বোনে এবং বুকে চেপে চেপে টিপতে থাকবেন। এমনটা করলেই দেখবেন নিমেষে ভয় পালিয়ে গেছে।

৫.হাইপনোসিস: আমাদের মন এবং মস্তিষ্কে প্রতিনিয়ত খারাপ ভাবনা এবং ভাল ভাবনার মধ্যে লড়াই চলতে থাকে। যখন যখন খারাপ ভাবনা জিতে যায়, তখনই আমাদের মনে ভয় নিজের জায়গা করে নেয়। হাইপনোসিস পদ্ধতিটি হল, সব সময় ভাল কিছু ভাবতে হবে। যত ভাল ভাবনা দিয়ে আমরা আমাদের মন এবং মস্তিষ্ককে ভরিয়ে তুলতে পারবো, তত খারপ ভাবনা দূরে পালাবে, সেই সঙ্গে পালাবে ভয়ও।

৬. ভয়কে বন্ধু বানান: যে কারণে ভয় পাচ্ছেন, সেই ভবনাটাকে প্রশ্রয় না দিয়ে ভাবুন এই ভয়ের করণে আপনার জীবনে কী কী ভাল হতে চলেছে। যেমন ধরুন অনেকে লোক সমাজে কথা বলতে ভয় পান। এক্ষেত্রে ভয়ের কথা না ভেবে ভাবতে থাকুন, যে সুযোগটা আপনি পেয়েছেন তা অনেকেই পায় না, তা হল নিজের মনের কথা হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ। এমনটা বারে বারে ভাবতে থাকলেই দেখবেন ভয় আপনার কাজে লাগে লাগছে, আপনাকে আর বিপদে ফেলছে না। সহজ কথায় ভয়কে কাজে লাগিয়ে এগতে হবে। একবার পিছিয়ে যাবেন তো সারা জীবন ভয় অপনার পিছু ছাড়বে না।

৭. ভয়কে লিখে রাখুন: আমাদের মধ্যে বেশিরভাগই যে বিষয়টি নিয়ে ভই পাই, সেটা নিয়ে এতটাই ভাবতে থাকি যে ভয় থেকে বেরনোর পরিবর্তে দুঃচিন্তার ঘেরাটোপে আটকে পরি। ফলে মন ভাল হওয়ার জায়গায় আরও খারাপ হতে শুরু করে। এক্ষেত্রে সহজ একটা পদ্ধতি বেশ কাজে আসে। কী সেই পদ্ধতি? এবার থেকে ভয় পেলেই কারণটা কাগজে লিখে রাখবেন। এমনটা করলে খারাপ চিন্তা আর আপনাকে ঝালাতোন করতে পারবে না দেখবেন।

৮. টিভি দেখুন বা বই পড়ুন: ভয়ের সময় সেই নিয়ে ভাবার পরবর্তে মনকে ভোলানোর চেষ্টা করুন। আর এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে এই পদ্ধতিটি। যখনই দেখবেন নানা ধরনের দঃচিন্তা মনকে কাবু করে ফেলছে, তখনই সিনেমা দেখবেন অথবা বই পড়বেন বা নিজের পছন্দের কোনও কাজে জড়িয়ে পরবেন। এমনটা করলেই দেখবেন ভয়ের কারণ থেকে দূরে সরে আসছে মন। যত মন আর ভয়ের মধ্যে দুরত্ব বাড়বে, তত আপনার শারীরিক এবং মানসিক অস্বস্তি কমতে শুরু করবে।

৯. ডায়েট: বিশ্বাস না করলেও একথা ঠিক যে আমরা কী খাবার খাচ্ছি তার সঙ্গে আমাদের ভয় পাওয়া বা না পাওয়ার সরাসরি যোগ রয়েছে। একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে খাবারে উপস্থিত নানা উপাদান আমাদের শরীর এবং মনের ভারসাম্য বিগড়ে দিয়ে এমন ধরনের সমস্যাকে আবয়বে বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ করে দেয়। তাই প্রতিদিনের ডায়েট ঝাল মশলা দেওয়া ভাজা জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে না রেখে পরিবর্তে সবজি এবং ফল খাওয়া শুরু করুন। এমনটা করলে ভাল ফল পাবেন দেখবেন!

১০. যোগ ব্যায়াম: শরীরে জমতে থাকা নেগেটিভ এনার্জি বের করে দিতে যোগ ব্যায়ামের কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। আসলে ব্যায়াম করার সময় আমাদের শরীরে এমন কিছু টক্সিনের ক্ষরণ বেড়ে যায় যে ভয় দুঃচিন্তা সব দূরে পালায়।

এম ইউ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: