জীবনের কিছু কাজ করুন বেপরোয়া হয়েই

আমরা প্রতিটি মানুষই যাই করি না কেন অন্যদের মাঝে তা কিছু প্রশ্নের তৈরি করে। দেখা যায় যে, সবারই যেন কিছু না কিছু বলার আছে আপনি কী করছেন সেই ব্যাপারে। আপনি কী করছেন, কী পোশাক পরেছেন, আপনার জীবনে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন- সব ব্যাপারেই তাদের ভীষণ আগ্রহ। কেউ কেউ তো প্রশ্নই করে বসছেন অথবা নিজের ধারণার উপর ভিত্তি করে আপনার কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয় তার উপর উপদেশ দিয়ে যাচ্ছেন।

জনপ্রিয় ব্লগার এবং মনোবিজ্ঞানী ডেভিড কে উইলিয়াম তার বক্তব্যে বলেন, আপনার কিছু বিষয় একান্তই আপনার ব্যক্তিগত এবং এই ব্যাপারে আপনি কাউকেই জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। প্রকৃতপক্ষে, আপনি যদি এই বিষয়গুলোতে জবাবদিহি করার দুশ্চিন্তা বহন করে বেড়ান তাহলে আপনার জীবন ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং আপনি কখনোই আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। শুধু আপনার কথাই শেষ কথা এইসব ক্ষেত্রে-

আপনার জীবনের বর্তমান অবস্থা
আপনি চাকরি করছেন কিনা, আপনার ব্রেক আপ হয়েছে কিনা অথবা সেই মানুষটির সাথে আবার মিটিমাট হয়েছে কিনা, আপনি কবে বিয়ে করবেন, বাবা-মায়ের সাথে কতদিন থাকবেন বা নিজে আলাদা বাসা নিয়ে থাকবেন কিনা এর সব কিছুই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিতে আপনি মোটেও বাধ্য নন।

আপনার জীবনে কী প্রধান
আপনার জীবনে কার গুরুত্ব কতখানি হবে তা একমাত্র আপনি নির্ধারণ করতে পারেন। গুরুত্ব দেওয়ার পছন্দ যেমন মানুষের ক্ষেত্রে হতে পারে তেমনই হতে পারে বস্তুর ক্ষেত্রে, জীবনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে। আপনি যা করে সুখী হবেন তাই আপনার জন্য সঠিক। পৃথিবীর সবার কাছে ক্যারিয়ার প্রধান বলে আপনার কাছেও হতে হবে এমন কোন কথা নেই। আসলে ‘বেশীরভাগের কাছে সত্যি’ এমন কোনকিছুর কোন বাস্তব পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। কারণ মানুষ স্বাধীন সিদ্ধান্ত খুব কমই নেয়। তাদের ভাবনা পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হতে থাকে। তাই সেই উদাহরণে না যেয়ে সেটাই করুন যা আপনার ইচ্ছে।

দুঃখিত অনুভব না করলে মাফ চাইবেন না
আপনি যদি কারও উপর বিরক্ত হন এবং এটা নিশ্চিত জানেন যে তার কাজগুলো ভুল তাহলে তাকে সরি বলা বা তার কাছে মাফ চাওয়ার কোন মানে নেই। অনেক সময় পরিবেশের চাপে আমরা অবস্থাকে সহজ রাখতে মন থেকে মেনে নিতে না পারলেও ক্ষমা চাই। কিন্তু এটি দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে আপনার মনে। আবার একইসাথে সেই মানুষটি একই অন্যায় আবার করার উৎসাহ পায়। ফলে আপাতদৃষ্টিতে ক্ষমা চাওয়া সমাধান মনে হলেও আসলে সমস্যা তাতেই বাড়ে।

যখন আপনার প্রয়োজন শুধু নিজের সাথে থাকা
আপনি হয়ত ভাবছেন একা একা ঘুরে বেড়ানো, কিছুদিন শুধু নিজের সাথে থাকা আপনাকে অসামাজিক মানুষে পরিণত করবে। সবাই আপনাকে রুঢ় ভাবতে শুরু করবে। পাত্তা দেবার কোন প্রয়োজন নেই। আপনার প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিন আগে। নিজেকে সময় দিন, নিয়ে আসুন ফুরফুরে মেজাজে। তারপর দেখবেন সব ঠিক গেছে। মনে রাখবেন, নিজে ভাল না থাকলে অন্যকে ভাল রাখা যায় না।

অন্যের কথায় সায় দেওয়া
আপনার বন্ধু, কাছের মানুষ বা যে কেউ তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কথা আপনার সাথে শেয়ার করতেই পারে। আপনার হাতে যদি সময় থাকে তাহলে আপনি শুনলেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনি নিজের বিশ্বাস তাকে জানাতে বাধ্য বা তার সব কথায় সায় দিতে বাধ্য। নিজের ভালো লাগাকে গুরুত্ব দিন। নিজের কাছে সৎ থাকাকে গুরুত্ব দিন। ছোট ছোট সুবিধা পেতে নিজেকে ছোট করার কোন মানে নেই। কেউ আপনাকে এক্ষেত্রে বাধ্য করার কোন অধিকার রাখেন না।

এম ইউ

জীবনের কিছু কাজ করুন বেপরোয়া হয়েই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: