মুড ভালো সব ভালো

this is caption

মুড ভালো, ধরে নেয়া যায় আপনার সব ভালো ভালোয় যাবে। অন্তত আর কিছু না হোক যেকোনো কষ্টকর কিংবা বিরক্তিকর কাজ আপনি স্বাচ্ছন্দে করে যেতে পারবেন।

কিন্তু যদি মুড ভালো না থাকে, তবে সবই খারাপ যাবে আপনার। মুড ভালো না হলে যতই আপনি ভালো কাজ করুন, সে কাজটি কিন্তু ভালো না হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

মোটকথা আপনার ভালো মন্দ সবকিছুতে মুডের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুড ভালো না থাকলে অনেক রকম বিপত্তি ঘটতে পারে।

মুড ভালো নেই, অথচ বন্ধুর সাথে আছেন। এ অবস্থায় আপনার খারাপ মুড বন্ধুর সাথে যেকোনো অঘটন ঘটিয়ে দেবার কারণ তৈরি করে ফেলতে পারে। শুধু বন্ধু বান্ধবই নয়, এ সমস্যা যে কারো সাথেই হতে পারে।

ধরুন আপনি সকালে অফিসে গেলেন, কিন্তু আপনার দিনের শুরুটা হলো মুড ভালো না অবস্থায়। তাতে আপনি অফিসের কাজ ঠিকমতো মনোযোগ দিয়ে করতে পারবেন না। সহকর্মীদের সাথেও আপনার কথাবার্তা ভালো হবে না। এতে করে তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা আদায় করে নিতেও আপনার কষ্ট হবে।

এমনকি অফিসে কোনো অঘটনও ঘটিয়ে ফেলতে পারেন। এতে করে সারাদিনটাই আপনার মাটি হয়ে যেতে পারে।

সেকারণে অবশ্যই দিনের শুরুটা হওয়া উচিত ভালো মুড দিয়ে। তাহলে সারাদিনই আপনার ভালোভাবে পার করে দিতে পারবেন অনায়াসে। যত ঝক্কি ঝামেলা আসুনক, আপনি সুন্দরভাবে মোকাবেলা করতে পারবেন।

মুড ভালো রাখতে সকালে ব্যায়ামের চর্চাও গুরুত্বপূর্ণ। দিনের শুরুটা সবারই সুন্দরভাবে হওয়া জরুরি। শরীর মন সব দিক থেকেই। ব্যায়াম যেমন শরীরকে ফুরফুর করে, তেমনি মনকেও ফুরফুর করে।

দিনের শুরুটা একটু হালকা খাবার দিয়ে শুরু হলে সবচেয়ে ভালো। স্বাস্ব্যের জন্যও অনেক ভালো। সুগন্ধী ব্যবহারও আপনার মুড ভালো রাখতে পারে।

এছাড়া মানুষের মুড না ভাল মন্দ তা শুধু মনকে ভালো রাখার ওপরই নির্ভর করে না শরীরকে সুস্থতার ওপরই অনেকখানি নির্ভর করে।

সাধারণত শরীরের সেরোটিনিন হরমোনকে ঘিরেই মানুষের মুড বা ভাবভঙ্গি ভাল বা মন্দ হয়। এ হরমোনটি সুখ এবং সুন্দর অনুভূতিককে উজ্জীবিত করে।

রক্তে সেরোটিনিনের মাত্রা কমে গেলে মুড খারাপ হয়। ফলে যেসব খাবার খেলে সেরোটিনিনের মাত্রা ভারসাম্য অবস্থায় থাকে সেসব খাবার সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

দেহে সিরোটিনিন তৈরিতে সহায়তা করে ট্রিফটোফেন। আর কলায় রয়েছে সর্বাধিনক পরিমাণ ট্রিফটোফেন।

মুগের ডাল, সূর্যমুখির বীজ, আনারস, মুরগীর মাংস, বাদাম, গাজর, সবুজ শাক-সবজি, স্ট্রবেরি, কমলার জুস গরুর কলিজা ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ট্রিফটোফেন থাকে।

এসব খাবার আমরা অন্যান্য খাবারের সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে নিয়মিত খেতে পারি। এতে ফুরফুরে মেজাজ তৈরি করে শরীরে। তবে সবসময় হাসিখুশি থাকা জরুরি।

অবশ্য সবসময় মানুষ হাসিখুশি থাকে না। কিন্তু তাকে মুড ভালো রাখা জরুরি।

তবে মনে রাখতে হবে, শুধু এই হরমোনই মুড ভাল রাখার জন্য এককভাবে কাজ করে না। মানুষের স্বভাব, আচরণ, চরিত্র, প্রকৃতি ও সংবেদনশীলতা এর জন্য অনেকখানি দায়ী।

শাতৈ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: