rankmath কলায় জুতা-দাঁত সব ফকফকা

কলায় জুতা-দাঁত সব ফকফকা

this is caption

বিশ্বের এমন কোনো দেশ মিলবে না যেখানে কলার চাষ হয় না। বিপুল জনপ্রিয় এই ফলটির পুষ্টিগুন সবারই জানা। তবে অনেকেই এর ভেষজ ও ব্যবহারিক গুনের কথা জানলে আরো বিস্মিত হবেন। এ কারণেই হয়তো বাংলা ভাষায় ‘ছলাকলা’ শব্দবন্ধটির আবির্ভাব হয়েছে। কথায় যেমন আছে, তিনি জুতা সেলাই থেকে চণ্ডিপাঠ করেন, ঠিক তেমনি কলাও শুধু পুষ্টির যোগানই দেয় না, এ ফল ব্যবহারিক কাজেও দেয় চমৎকার সব ফলাফল। ‘সকল কাজের কাজি’ এই কলা নিয়েই আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন।

কলার ছোলা (খোসা) দিয়ে চামড়ার জুতা ও কাপড় পরিস্কার করতে পারেন অনায়াসে। কলার ছোলা দিয়ে ব্যবহার্য চামড়ার জিনিস পরিস্কার করলে তা অধিক টেকসই হয় ও তার বাহ্যিক মসৃণতাও বাড়ে।

কলার ছোলা দিয়ে অন্যকোনো কাঁচা ফলকেও পাঁকাতে পারেন। আপনি কাঁচা কোনো ফলের সাথে কলার ছোলা রাখুন। দেখবেন দ্রুতই কাঁচা সেই ফলগুলো পেকে যাচ্ছে।

অনেকেই বাসায় অর্কিড চাষ করেন। বেশ সুন্দর একটি অর্কিড দেখাতে চাইলে কলার ছোলা ব্যবহার করতে পারেন। কলার ছোলা অর্কিডের টবের মাটির নিচে রাখুন। কেননা কলার ছোলায় রয়েছে সমৃদ্ধ ম্যাগনেসিয়াম, সালফার ও অ্যামিনো অ্যাসিডসহ বিভিন্ন পুষ্টি, যা অকির্ডের জন্য বিশেষ প্রয়োজন।

আপনার মুখমণ্ডল যদি সর্বক্ষণ শুকনো আর খসখসে থাকে, তাহলে কলার ছোলার ভিতরে অংশদিয়ে আপনার মুখের ওপর আস্তর দিয়ে রাখুন। এরপর মিনিট দশেক পর পানি দিয়ে পরিস্কার করুন। দেখবেন আপানার মুখ কোমল ও মসৃণ হয়েছে।

কলার ছোলা দিয়ে চামড়ার ফোঁড়া পাঁচড়া দূর করা যায়। মুখ মণ্ডল ও চামড়ায় যেখানে ফোঁড়া বা পাঁচড়া হয়েছে, সেখানে কলার ছোলা ব্যবহার করুন। কেননা কলার ছোলা মধ্যে রয়েছে একধরণের উপাদান, যা ভাইরাস প্রতিরোধ করে। এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, কলার ছোলা দিয়ে ভাইরাস জনিত পাঁচড়া ও পায়ের বেরিবেরি দূর করা যায়। আপনি কলার ছোলা কুচি কুচি করে তা ফোঁড়া-পাঁচড়ার স্থানে মেখে রাখুন, অথবা পানির মধ্যে সিদ্ধ করে, সে পানি দিয়ে ভালকরে ওই স্থানগুলো ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন বেশ কয়েকদিনের মধ্যেই কার্যকর হতে শুরু করেছে।

মুখে আলসার হলেও কলার ছোলা ব্যবহার করা যায়। কলার ছোলা ও পলিগোনাম একসাথে পানিতে মিশিয়ে সিদ্ধ করুন। তারপর এই পানি পান করলে আলসারের নির্মূল করা যায়।

অর্শ্বরোগ ও মলের সাথে রক্ত গেলে চামড়াসহ দুটি কলা আগুণে পুড়ে বা কাবাব করে খেয়ে নিন, আপনার অর্শ্বরোগ ও মলে রক্ত যাওয়া অবস্থা ক্রমেই উন্নত হবে।

আপনার গায়ের চামড়া কি রুক্ষ, শুষ্ক আর ফেঁটে যায়? তাহলে নিয়মিত কলার ছোলার ভিতরের পাশ দিয়ে প্রতিদিন একবার করে ঘষে নিন। এভাবে ব্যবহার করলে বেশ কয়েকদিনের মধ্যে এ অবস্থার উন্নতি হয়ে যাবে।

প্রতিদিন ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম কলার ছোলা সিদ্ধ পানি পান করলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সম্ভব, একই সাথে এই পানি পানে রক্ত সঞ্চলন সহজ হয়ে ওঠে ও স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

আপনার কি দাঁতে ব্যথা? তাহলে কলার ছোলা ভাল করে পরিস্কার করে চিনির সাথে মিশিয়ে পানিতে সিদ্ধ করুন। তারপর প্রতিদিন দুবার করে এ পানি দিয়ে পান করুন। দেখবেন আপনার দাঁত ব্যথা ভাল হয়ে যাবে। সবচেয়ে মজার তথ্য হলো, অনেকের দাত মজবুত হলেও হলদেটে ভাবটা দুর করতে পারেন না। দামি দামি ব্রাশ-পেস্ট ব্যবহার করেও। তারা এই কলার ছোলার ভেতরের পাশটা দিয়ে দাতগুলো দুই মিনিট ধরে ঘষুন। দেখবেন ম্যাজিক। খোসার পটাশিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজের মতো খনিজের কারণে তখনই দাত হয়ে উঠবে মুক্তার মতো ঝকমকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: