বেসরকারি ফ্লাইটে বাড়ছে যাত্রী বিমানের ফ্লাইট সাত দিন বন্ধ

স্বাস্থ্যবিধি মেনে গত সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে অভ্যন্তরীণ রুট চালুর পর বেসরকারি উড়োজাহাজে প্রতিদিন বাড়ছে যাত্রী। তবে ’টিকিট বিক্রি হচ্ছে না’—এই অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চলাচল। আগামীকাল সোমবার বসে থাকবে বিমান। সেই সোমবার একদিন মাত্র ফ্লাইট পরিচালনা করে আগাম ঘোষণা দিয়ে চলাচল বন্ধ রেখেছে বিমান।

বিমানের এই খামখেয়ালিপনার কারণ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কথা বলতে রাজি নন। তারা বলছেন, টিকিট অবিক্রিত থাকছে, পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমানের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার বলেন, যাত্রী সংকটে কোনো ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিমানে যাত্রী সংকট কাটাতে ভাড়া কমানোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও নভোএয়ারে যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। বিমানের চেয়ে তাদের ভাড়া বেশ কম। বিমান বাংলাদেশের ওয়ানওয়ে টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর রুটে সর্বনিম্ন ৩৩০০ টাকা, চট্টগ্রামে ৩১০০, সিলেটে ৩১০০ টাকা। অথচ বর্তমানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ভাড়া ১ হাজার ৯৯৯ টাকা করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। কাছাকাছি ভাড়া নিচ্ছে নভোএয়ার। তিন রুটেই অন্যদের চেয়ে ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ।

অভ্যন্তরীণ রুটে অধিকাংশ যাত্রী আগাম বুকিং না দিয়ে দিনের টিকিট দিনেই কাটেন। বিশেষ করে এই করোনাকালে ভ্রমণের দিনে, এমনকি কেউ কেউ বুকিং দিয়ে বিমানবন্দরে গিয়ে টিকিট কাটেন। অথচ টিকিট কম বিক্রি হচ্ছে এবং যাত্রী সংকট চলছে—এমন কথা বলে গত মঙ্গলবার হতে পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে বিমান চলাচল।

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে অভ্যন্তরীণ রুটে ২৪ মার্চ থেকে বিমানের সব ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করা হয়। তবে গত সোমবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

আরো পড়ুন: করোনার সুযোগে মাস্ক পরে চুরি

নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মফিজুর রহমান বলেন, করোনার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে চলাচল করছেন যাত্রীরা। শুরুতে যাত্রীর সংখ্যা কম হলেও এখন পর্যন্ত নভোএয়ারের কোনো ফ্লাইট বাতিল হয়নি। বাড়ছে যাত্রী।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম জানান, শিডিউল মতোই সব চলাচল করেছে। যাত্রী বাড়ছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, ফ্লাইট চালুর প্রথম তিনদিনে দেশের তিনটি আকাশপথে যাতায়াত করেছেন ৩ হাজার ৪৫ জন যাত্রী।

এদিকে যাত্রী আকর্ষণ করার দিকে না গিয়ে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকায় প্লেন ভাড়া করে (চার্টার) বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সাত রুটের যে কোনো বিমানবন্দরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিমান। বিমানের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার জানান, এজন্য একটি গন্তব্যে পাঁচ ঘণ্টার জন্য কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ পড়বে। অর্থাত্ কেউ এই অর্থে বিমানের ফ্লাইট ভাড়া করে এই সাতটি রুটের যে কোনোটিতে আসা-যাওয়া করতে পারবেন পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে। বেশি সময় লাগলে কিংবা দূরত্ব ভেদে টাকার পরিমাণ বাড়বে বলে জানান তাহেরা। গতকাল বিমানের একটি চার্টার্ড ফ্লাইট মালদ্বীপে পাঠানো হয়েছে ভাড়ায়।

ইত্তেফাক/এএএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: