মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে কুয়েতে সংসদ সদস্য কাজী পাপুল গ্রেফতার

মানবপাচার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার হয়েছেন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুল। তিনি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য। শনিবার রাতে কুয়েতের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) তাকে গ্রেফতার করে। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, শনিবার (৬ জুন) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় কুয়েতের সিআইডি সদস্যরা মুশরেফ আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, সংসদ সদস্য শহীদ ইসলাম পাপুলকে কুয়েত সরকারের সিআইডি গ্রেফতার করেছে বলে জানতে পেরেছি। শনিবার রাতে কুয়েত সিটির বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আমরা বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। কুয়েত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে তিনি জানান, ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও মানি লন্ডারিং এর অভিযোগ তদন্ত করছে কুয়েত সরকার। ফেব্রুয়ারিতে এ সংক্রান্ত সংবাদ কুয়েতের পত্রিকায় প্রকাশ হয়। এরপরও দূতাবাসকে কিছু জানায়নি কুয়েত সরকার।

সূত্র জানায়, কুয়েতে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর মানব পাচার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ১০০ জনেরও বেশি ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযুক্তদের তালিকায় এমপি কাজী পাপুলের নামও ছিল। কুয়েতে ব্যবসা রয়েছে তার। মার্চ মাসের শেষদিক থেকে কুয়েতেই অবস্থান করছিলেন তিনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে কুয়েতের আরবি দৈনিক আল কাবাস ও আরব টাইমস সংসদ সদস্যসহ বাংলাদেশের মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের তিন জন মানব পাচারকারীকে ধরতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল এই তিন জনের মধ্যে একজন। সেখানে গ্রেফতার অভিযান শুরুর আগেই তিনি দেশে চলে আসেন। কুয়েতে তাঁর পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ মাস ধরে কর্মীদের বেতন দিচ্ছে না।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির নিরাপত্তা বিভাগ বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্যকে খুঁজছে যার অবৈধ ভিসার ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তার কোম্পানি যাতে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পায় সেজন্য বাংলাদেশের ওই সংসদ সদস্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ঘুষ হিসেবে ৫টি বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দিয়েছেন।
দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা বলেছে, ২০ হাজার বাংলাদেশিকে কুয়েতে পাচার করে ওই চক্রটি ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

কাজী শহিদ ইসলামের ফেসবুক ও ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি মারাফী কুয়েতিয়া গ্রুপ অব কোম্পানিজ, কুয়েত, ওমান ও জর্ডানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানটি জনশক্তি রপ্তানিতে যুক্ত। এ ছাড়া তিনি বেসরকারি খাতের ব্যাংক এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান এবং এনআরবি সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কোম্পানির চেয়ারম্যান। স্বতন্ত্র এই সংসদ আওয়ামী লীগ কুয়েতের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, বাংলাদেশ কমিউনিটি কুয়েতের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বিগত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন।

ইত্তেফাক/এসআই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: