স্বাধীনতার সূচনা বিন্দু ছিলো ৬ দফা: তোফায়েল

প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘আমাদের সূচনা বিন্দু ছিল ছয় দফা। ৬ দফা না দিলে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হত না, আর বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত না করতে পারলে ৭০ এর নির্বাচনে জয়ী হতে পারতাম না। অর্থাৎ ছয় দফার সাঁকো পেরিয়েই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।’

ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবসে রবিবার রাতে ‘৬ দফা থেকে স্বাধীনতা’ শীর্ষক তরুণদের সাথে রাজনীতিবিদ ও ইতিহাসবিদদের ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সঞ্চালনায় ছিলেন সুভাষ সিংহ রায়।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছয় দফা ও ৭ জুন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে। আমাদের জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ছয় দফা ও ৭ জুনের গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৬৬-এর এই দিনে মনু মিয়া, মুজিবুল্লাহসহ অসংখ্য শহীদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন। বাংলার গণমানুষ ’৬৬-এর ৭ জুন স্বাধিকার ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সর্বব্যাপী হরতাল পালন করেছিল।’

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ৬৬ এর ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে সম্মিলিত বিরোধী দলসমূহের এক কনভেনশনে বাংলার গণমানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের দাবি সম্বলিত বাঙালির ‘ম্যাগনাকার্টা’ খ্যাত ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা দাবি’ উত্থাপন করে তা বিষয়সূচিতে অন্তর্ভূক্ত করার প্রস্তাব করেন। কিন্তু সভার সভাপতি চৌধুরী মোহাম্মদ আলী ‘ছয় দফা দাবি’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলে ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখ বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে ঢাকা বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং ২০ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ‘ছয় দফা’ দলীয় কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুন অর রশিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত এই আলোচনায় অংশ নেন।

ইত্তেফাক/বিএএফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: