আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে দলগুলোর সাড়া নেই

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমাদানে সাড়া নেই। নিবন্ধনের শর্ত মোতাবেক দলগুলোকে প্রতিবছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বিগত পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। বিদায়ী পঞ্জিকা বছর ২০১৯ সালের বার্ষিক খরচ জমা দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন তাগিদ দিলেও তাতে আশানুরূপ সাড়া মিলছে না। আর মাত্র ৫দিন সময় থাকলেও এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ দল হিসাব জমা দেয়নি। যদিও ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা সংক্রমনের কারণে এবার রাজনৈতিক দলগুলো আয়-ব্যয়ের হিসাব জমার জন্য অতিরিক্ত সময় বৃদ্ধি করবে ইসি।

নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেবল জাতীয় পার্টি (জাপা) হিসাব জমা দিয়েছে। আর একটি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। তারা প্রাপ্তি ও জারি শাখায় কাগজ-পত্র জমা দিয়ে গিয়েছেন। এখনো সংশ্লিষ্ট শাখায় কোনো চিঠি পৌঁছায়নি। এখন ইসিতে নিবন্ধিত দল রয়েছে ৪১টি। সে অনুযায়ী ৩৯টি দল হিসাব জমাদানে এখনো কোনো সাড়া দেয়নি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলোর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

২০১৯ সালে জাপার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ পঞ্জিকা বছরে জাপার আয় হয়েছিল ১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। আর ২০২০ সালে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালের (পঞ্জিকা বছর) দলটির আয় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২২ হাজার ৫৪৫ টাকা। অর্থাত্ এক বছরে আয় কমেছে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এছাড়া গত বছর (২০১৮ পঞ্জিকা বছর) দলটির ব্যয় হয়েছিল ১ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এতে তখন উদ্বৃত্ত ছিল ৭৭ লাখ ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে এবার ব্যয় হয়েছে (২০১৯ পঞ্জিকা বছর) ১ কোটি ৭৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫৭০ টাকা। অর্থাত্ বর্তমানে দলটির উদ্বৃত্ত আছে ১৯ লাখ ২২ হাজার ৯৭৫ টাকা। দুই বছরের ব্যয়ের হিসাব তুলনা করলে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার দলটির প্রায় ৫৭ লাখ টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের ভোগান্তি কমেনি

২০০৮ সাল থেকে নিবন্ধন প্রথা চালুর পর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও) মেনে প্রতিবছর আর্থিক লেনদেনের হিসাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর। বর্তমানে ইসিতে ৪১টি দল নিবন্ধিত রয়েছে। আগের বছর ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল তাদের আয় দেখিয়েছিল ২৪ কোটি এবং আরেক প্রধান দল বিএনপি আয় দেখিয়েছিল ১০ কোটি টাকা। নিয়মানুযায়ী অডিট রিপোর্ট রেজিস্টার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আরপিও অনুযায়ী নিবন্ধিত কোনো দল পরপর তিন বছর কমিশনে আর্থিক প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিলের এখতিয়ার রয়েছে ইসির।

ইসি’র চিঠিতে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দলগুলোর সাধারণ সম্পাদক/ মহাসচিব বরাবর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনের নির্ধারিত একটি ছকে জমা দিতে হবে।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের অডিট রিপোর্ট নির্ধারিত সময়ে জমা দিয়েছিল নিবন্ধিত ৩৩টি দল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হয়েছিল ছয়টি দল। তারা ইসির কাছে আবেদন করে সময় নিয়ে পরে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল।

ইত্তেফাক/এএএম

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: