খালেদা জিয়া করোনায় আটকা!

ঢাকা, ০৮ নভেম্বর- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ দ্বিতীয় দফা ছয় মাস বৃদ্ধি করেছে সরকার। এর মধ্যে ৪৫ দিন অতিবাহিত হলেও তার উন্নত চিকিৎসা এবং স্থায়ী জামিনের বিষয়ে এখনো কোন পদক্ষেপ নেয়নি বিএনপি।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও তার আইনজীবী দলের সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এ প্রতিবেদককে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের স্থায়ী জামিন আবেদনের বিষয়ে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ এবিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। করোনা পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বেগম জিয়ার সাজা আগের দুই শর্তে আরো ছয় মাসের জন্য সরকার স্থগিত করলেও বিএনপি বলছে, বিএনপি চেয়ারপারসন মুক্ত নন। সরকার তাকে গৃহে অন্তরীণ করে রেখেছে।

এবিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্ত নন। সি ইজ নট ফ্রি। বলা হচ্ছে যে, বেগম জিয়ার সাজা স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু সাজা স্থগিত হলে তো তার ওপর তো কোনো বিধি-নিষেধ থাকার কথা না। তাই ডিফারেন্সটা হচ্ছে, শুধুমাত্র হাসপাতাল থেকে তাকে তার বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে। ওখানে তিনি হোমলি পরিবেশের মধ্যে আছেন। যেটাকে সোজা কথা বললে বলা যায়- গৃহে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তিতে বিদেশে না যাওয়ার শর্তকেও অমানবিক বলছে বিএনপি। তবে সরকার বলছে, বেগম জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে তার পরিবার আবেদনে পরিষ্কারভাবে কিছু বলেননি।

এবিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ম্যাডাম অসুস্থ। তার একটা এডভান্স ট্রিটমেন্ট। আর এডভান্স ট্রিটমেন্টের জন্য এডভান্স সেন্টার দরকার। সেটা আমাদের এখানে নাই। ট্রিটমেন্টে আছে হয়ত। কিন্তু সেই ট্রিটমেন্টের জন্য আনুষঙ্গিক যে ব্যাপারগুলো আছে- রক্ত পরীক্ষা, অন্যান্য পরীক্ষা, একটা থ্যারাপী দেয়ার পরে তার ফলোআপ করার যে সমস্ত বিষয়গুলো সেগুলো এখানে পরিপূর্ণভাবে নেই।

বিএনপি চেয়ারপারসনের বিদেশে উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে কিভাবে যাবেন? কারণ সেখানেও তো করোনা ভাইরাস!

তবে সরকার অনুমতি দিলে বেগম জিয়া বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, এবিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নিবেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তার পরিবার। গত ২৭ আগস্ট খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। পরে গত ৩ সেপ্টেম্বর সরকার আগে শর্তেই তার সাময়িক মুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করে। অর্থাৎ তিনি বাসা ও দেশে থেকে চিকিৎসা নেবেন।

এরআগে গত ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। এরপর থেকে গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল

আর/০৮:১৪/৮ নভেম্বর

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: