বাইডেনের জয়, ফুরফুরে মেজাজে বিএনপি

ঢাকা, ১০ নভেম্বর- বড় ধরনের কোনো প্রত্যাশা না থাকলেও জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপিতে এক ধরনের উৎফুল্ল ভাব তৈরি হয়েছে। দলটি মনে করছে, ডেমোক্রেটিক দলীয় বাইডেন দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ প্রশ্নে দেশটির বিদেশনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না হলেও অন্তত মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে বিশ্বব্যাপীই কিছুটা সুবিধা হবে। আর এর কিছু প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে বলে বিএনপির নেতারা মনে করেন।

গতকাল সোমবার বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে দলটির এমন মনোভাবের কথা জানা গেছে। তবে কৌশলগত কারণে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে জড়িয়ে তাঁরা সরাসরি মন্তব্য করতে চাইছেন না।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রতিবেদককে বলেন, জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য অনেক ভালো খবর। মানুষ স্বস্তি পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের লড়াইয়ে জয়ী বাইডেন অবশ্যই বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষে থাকবেন এবং কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে অবশ্যই তাঁর সরকারের অবস্থান দৃঢ় হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এতটা আশাবাদী নন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকার এই নির্বাচনের একটু গভীরে গেলে স্পষ্ট যে এটা আসলে বাইডেনের নিজের জয়, সার্বিকভাবে ডেমোক্রেটিক পার্টর জয় নাও হতে পারে। কেননা সিনেট ও কংগ্রেসের বেলায় তাঁরা তেমন সাফল্য দেখাতে পারেননি। এমতাবস্থায় বাস্তবতার প্রেক্ষিতে একা বাইডেনের পক্ষে বিশ্বরাজনীতি তথা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পররাষ্ট্রনীতিতে খুব শিগগির কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে প্রতীয়মান হয় না।’

বাইডেনের বিজয়কে বিশ্বের কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলোর জন্য কঠিন বার্তা বলে মনে করেন বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর কথায়, বাইডেনের জয়লাভ প্রমাণ করেছে, কর্তৃত্ববাদী সরকার বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, সারা বিশ্বের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মুক্তিকামী মানুষের জন্য বাইডেনের জয় অবশ্যই এক সুসংবাদ। এর প্রতিফলন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে দেখা যাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য এ প্রতিবেদককে জানান, জো বাইডেন জয়লাভ করায় গত দুই দিন তিনি বেশ স্বস্তিতে আছেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কিছু হোক বা না হোক, অন্তত অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সুযোগ তৈরি হবে বাইডেনের জয়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির ওপর সব কিছু নির্ভর করছে বলে মত দেন তিনি।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, ২০১৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদলের পরও দলটির জন্য ইতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। এ কারণে এবার দলের মধ্যে প্রত্যাশা ছিল বেশ কম। ফলে নির্বাচনের আগে দলটি তেমন কোনো আগ্রহ দেখায়নি। তবে বাইডেনের জয়লাভে তাঁরা বেশ স্বস্তি পেয়েছেন।

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের পরিবর্তে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ প্রশ্নে দেশটির অবস্থান কিছুটা হলেও বদল হবে বলে বিএনপি প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু পরে তাদের আশাভঙ্গ হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতে ক্ষমতায় রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির পরিবর্তন হলেও দেশটির বিদেশনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি, বরং কংগ্রেসের মতো নরেন্দ্র মোদি সরকারও বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক ধরে রাখে। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নির্বাচনে হেরে যান ডেমোক্রেটিক দলীয় হিলারি ক্লিনটন।

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হিলারি ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ায় একধরনের আশাবাদ তৈরি হয় বিএনপিতে। হিলারির সঙ্গে ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠতা ছাড়াও বিএনপির সঙ্গে একধরনের সুসম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। ২০১২ সালের ৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি বাংলাদেশ সফর করেন। সে সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া, ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সুধীসমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সফর শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গণতন্ত্র থেকে বিচ্যুতি এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসার আহ্বান জানান হিলারি। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংক ইস্যুতে তিনি ড. ইউনূসের পক্ষে কথা বলেন। অবশ্য গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে হিলারির বক্তব্য অপ্রয়োজনীয় বলে ওই সময় সরকার প্রতিবাদ জানায়।

হিলারির দলের প্রার্থী জো বাইডেন এবার রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। এ অবস্থায় আগামী দিনগুলোতে দেশের ‘কর্তৃত্ববাদী সরকার’-এর বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ তৈরি হবে বলে বিএনপির নেতারা মনে করছেন। তাঁরা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘কর্তৃত্ববাদী সরকার’ বলে অভিযোগ করে থাকেন।

সূত্র : কালের কন্ঠ

আর/০৮:১৪/১০ নভেম্বর

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: