সরকার একুশের চেতনাকে ভুলন্ঠিত করেছে : ড. খন্দকার মোশাররফ

ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি – গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে সরকার একুশের চেতনাকে ভুলন্ঠিত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সোমবার বিকালে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকে এদেশে ৫০ বছরের প্রাক্কালে আমরা বেদনার সাথে বলতে বাধ্য হই যে, একুশের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা, স্বাধীনতার প্রত্যাশা আজকে ভুলণ্ঠিত। কারা ভুলণ্ঠিত করেছে? আজকে যারা সরকারে তারা শুধুমাত্র গায়ের জোরে স্বৈরাচারী কায়দায় ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা এভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং দলীয়করণ করে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়ে আজকে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে পরিচালিত করছে। এই সরকার শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য লোভে পড়ে আমাদের সকল অর্জনকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন : দ্বিতীয় চালানে ভারত থেকে এলো ২০ লাখ করোনার টিকা

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমরা দেখতে পাই, গণতন্ত্রহীনতা, বিচারহীনতা, দলীয়করণ– এমন অবস্থা নিয়ে আমাদেরকে ফেলেছে যেখানে দেশে নির্যাতন-নিপীড়ন, হত্যা-গুম-খুন, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজী-ক্যাসিনোবাজী, দুর্নীতিসহ হেন অপকর্ম নাই যে বাংলাদেশে হচ্ছে না। বিরোধী দলকে এই সরকার দাবিয়ে রাখার জন্য সব কিছু করছে। বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এক লাখের উপরে মামলা, ৩৫ লাখের উপরে আসামি। গুম-খুন-বিচারবর্হিভূত হত্যার শিকার এই দলের নেতা-কর্মীরা। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একটি বানোয়াট মামলায় আজকে সাজা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিম্ন আদালতে যে রায়ে তিনি খালাস হয়েছেন সেটাকে উচ্চ আদালতে নিয়ে সেই আদালতকে প্রভাবিত করে তাকে আবার সাজা দিয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে আমাদেরকে কথা বলতে দেয়া হয় না। আজকে কী অবস্থা? দেশে গণতন্ত্র নাই, মানুষের অধিকার নাই, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয় নাই। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে তো মানুষের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছিলো আমাদের বীর বাঙালীরা।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ সেই সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে। যদি ভাষা আন্দোলন সঠিক হয়ে থাকে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সঠিক হয়ে থাকে, আমাদের স্বাধীনতা সঠিক হয়ে থাকে তাহলে এদেশে গণতন্ত্র আমাদেরকে পুনরুদ্ধার করতে হবে, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে, এদেশের জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সেলিমা রহমান বক্তব্য রাখেন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ২৩ ফেব্রুয়ারি

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: