উন্নয়নে বাধা দিলে কঠোরভাবে দমন করা হবে: নৌ প্রতিমন্ত্রী

দুর্নীতি ও জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করা বিএনপি বর্তমান সরকারের সফলতা মেনে নিতে পারছেনা বলে মন্তব্য করেছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের অগ্রগতি, এটা অনেকের পছন্দ না। যারা বাংলাদেশের জনগণের অর্থ সম্পদ লুণ্ঠন করে, যারা মানুষকে দুঃসহ জীবন যন্ত্রণায় ঠেলে দিয়ে নিজের আখের গুছিয়েছে। তাদের কাছে বাংলাদেশ সরকারের সঠিক পদক্ষেপগুলো পছন্দের না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে, এটা অনেকেরই পছন্দ হয় না। অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাক, বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা লাভবান হয়। যাদের এজেন্ডা নিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করে তাদের লাভ হয়। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের উন্নয়নে বাধা প্রদান করা হলে দেশ বিরোধীদের কঠোর ভাবে দমন করা হবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে জেলার বোচাগঞ্জে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির সারাদেশে লকডাউন দাবি প্রসঙ্গে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেকে বলেছেন, সারাদেশে লকডাউন দিয়ে দিতে। লকডাউন করে দিলে বাংলাদেশের অর্থনীতি কোথায় যাবে! বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। মিলেনিয়াম গোল আমরা সময়ের আগে অর্জন করেছি। এসডিজি ২০৩০ সালে নির্ধারণ করা আছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন তিন-চার বছর আগেই আমরা এসডিজি অর্জন করতে পারব। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০৪১ সালে আমরা উন্নত দেশ হব।

করোনা মোকাবিলায় সরকারের ফলপ্রসু কৌশলের কথা তুলে ধরে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনেকে বলেন, হাসপাতালের বেড ফাঁকা; কারণটা কী? এর কারণ সরকার জনগণের কাছে সঠিকভাবে করোনা সম্পর্কে উপস্থাপন করতে পেরেছে। ফলে জনগণ সচেতন হয়েছে। জনগণ সেভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের অনেকেই বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

খালিদ বলেন, করোনায় ইউরোপ আমেরিকায়ও হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। পৃথিবীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে যারা সব সময় গর্ব, সেই ইতালির প্রধানমন্ত্রী সৃষ্টিকর্তার দিকে তাকিয়ে অসহায় আর্তনাদ করেছেন। আমরা দেখেছি কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে চোখের পানি ফেলতে। তারাতো উন্নত দেশ। তাদেরতো উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে। গবেষণা আছে। গবেষণার জন্য বিলিয়ন ডলার তারা বিনিয়োগ করে। আমরা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখেছি, গত দুই তিন মাসে কত ধরনের পদক্ষেপ নিলেন, কত পদক্ষেপ থেকে সরে আসলেন। এর মধ্য দিয়ে বুঝা যায় আমেরিকার প্রশাসন পর্যন্তÍ বিভ্রান্তির মধ্যে আছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একদিনের জন্যও কোন বিভ্রান্তির মধ্যে কেউ দেখে নাই। তিনি বাংলাদেশের জনগণের কথা চিন্তা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে জনগণকে রক্ষা করার পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

খালিদ বলেন, আমেরিকা-ইতালির বিভিন্ন দেশে গণকবর দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে গণকবর দেয়া হয় নাই। ধর্মীয় রীতি নীতি মেনে নিয়েই দাফন-কাফন ও সৎকার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সাহসী নেতৃত্বের কথা তুলে ধরে খালিদ বলেন, আমাদের আমেরিকার মতো ৪০ বছরের রিজার্ভ নাই। বাংলাদেশে ৫৬ হাজার বর্গ মাইলে ১৬ কোটির ওপরে মানুষ। ঘনবসতি একটা জায়গা। সেই জায়গায়- করোনা নির্দেশনা অনুযায়ী মানুষ-মানুষের কাছে যাওয়া যাবেনা। এত ছোট ভূখণ্ডে এত মানুষ নিয়ে করোনা মোকাবিলা করা এটা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, পৃথিবীর যেকোন দেশের সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান এমন ছোট আবাসভূমির মধ্যে এত ঘনবসতি যদি থাকত; তাহলে তিনি তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে চলে যেতেন। কিন্তু শেখ হাসিনা সাহসিকতার সঙ্গে এ দুঃসাহসিক কাজটি করেছেন। এবং এ কারণেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম শেখ হাসিনাকে বিস্ময়কর ও সাহসী নেতৃত্ব বলে অভিহিত করেছেন।

খালিদ বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। আমরা তাদেরকে আর সে সুযোগ দিতে পারিনা। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এটা আমাদের দায়িত্ব। আমরা ৩০ লাখ শহীদ ও জাতির পিতার রক্তের কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ। তিনি বলেন, গত ৫০ বছরেও আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করতে পারি নাই। আমাদের পথচলায় যদি কেউ বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, আমরা শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হব।

করোনার এ সময় মুজিবপ্রেমীদের পরীক্ষা দেয়ার সময় মন্তব্য করে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জাতির পিতার আদর্শ আমরা কতটুকু ধারণ করি। বাঙালি প্রতিটি পরীক্ষায়ই অবতীর্ণ হয়ে জয়ী হয়েছে। আমরা এবারো জয়ী হবো। খালিদ বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ যেভাবে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, এর চেয়ে দেশপ্রেম আর কী হতে পারে! এর চেয়ে মুজিবের প্রতি ভালবাসা আর কী হতে পারে।

খালিদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসে সাহসী হয়ে উঠছে। আমরা যখন দেখি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ উপলক্ষে এক কোটি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তখন আমরা সাহসী হই। আমরা যখন দেখি, শেখ হাসিনা ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা বলতে বলতে অশ্রু ফেলে বলেন, আমি আমার জীবন বাংলাদেশের জনগণের জন্য উৎসর্গ করতে চাই। তখন বাংলাদেশের জনগণ সাহসী হয়ে উঠে। সাহস খুঁজে পায়।

এদিন প্রতিমন্ত্রী বোচাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, আধুনিক মানের রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, গোপেন সাহার হাটে দ্বিতল গ্রামীণ বাজার ভবন (চার-তলা ভিত বিশিষ্ট) নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং এডিপি প্রকল্পের আওতায় হুইল চেয়ার, ভ্যানগাড়ি ও বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন বিতরণ এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে অর্থ বিতরণ করেন।

এসময় বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছন্দা পাল, সেতাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এম আব্দুস সবুর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সৈয়দ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আফছার আলী, দিনাজপুর এলজিআরডি নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম জাকিউর রহমান, বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে বোচাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

ইত্তেফাক/এমএএম

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: