২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের স্মরণ সভা

১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মদদদাতা ও মাষ্টার মাইন্ড যারা ছিলো সেই সকল ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।

বৃহস্পতিবার ( ২০ আগস্ট) দলীয় কার্যালয়ের সামনে দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত শহীদদের স্মরণে শোকসভা, দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি ।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা দেশের সাথে অপরাধ করেছেন তাদের বিচার করা হয়েছে। মাষ্টার মাইন্ড যারা তাদেরও বিচার করা হবে। যারা এই খুনিদের পুনর্বাসন করেছে তাদেরকে বিচার করা হবে।

তিনি বলেন, মানুষের ঘুম ভাঙ্গে আযানের শব্দ শুনে কিন্তু আমাদের ঘুম ভেঙেছিল গুলির শব্দ শুনে। উঠে দেখি সিঁড়িতে বাবা-মার রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। তখন ঘাতক চক্র বারবার আমাদের দুই ভাই ও আমাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খুঁজেছে মেরে ফেলার জন্য। জীবন বাঁচাতে বাসা থেকে এক কাপড় পড়ে বের হয়ে এসেছিলাম। আমরা ছোট ছিলাম তখন আমাদের বোধগম্য হয় নাই মৃত্যু কাকে বলে। একটি মানুষ কিভাবে অন্য একটি মানুষকে হত্যা করতে পারে।

পরশ বলেন,১৫ আগস্টে ছিল সুপরিকল্পিত হত্যা। ১৫ আগস্টের ছিল জাতিকে ধ্বংস করার একটি নীল নকশা। ১৫ ই আগস্টে ছিল আন্দোলন-সংগ্রাম স্বাধীনতাকে ধূলিসাৎ করা বাঙ্গালী জাতিকে অস্বীকার করা। ১৫ আগস্ট ষড়যন্ত্রকারীদের লক্ষ্য ছিল বঙ্গবন্ধুসহ তার রক্তের সকল পরিবারকে নির্মম ভাবে নিঃশেষ করা। এদেশকে পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা। আমরা দেখেছি বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারের নিশংসতম হত্যাকাণ্ড। এটা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, একটি নারী ও শিশু হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের আলোচনা করার ভাষা আমাদের নেই। যেভাবে আমরা ৭১ মুক্তিযুদ্ধের ঘাতকদের বিচার করেছি ঠিক সেভাবেই এর পিছনে যে সকল ঘাতকরা আছে তাদের বিচার করা হবে।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড কারা? তখন কারা দেশের ক্ষমতায় ছিল? পাকিস্তানিদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে খুনিদের পুরস্কৃত করা, দূতাবাসে চাকরি দেওয়া, তাদের পুনর্বাসন কারা করেছিল? আজকে তো এই সকল ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন হয়ে যাচ্ছে। একজন সাধারণ চাকরিজীবী হয়ে স্বপ্ন দেখলেন রাজনীতিবিদ হওয়ার, রাষ্ট্রপতি হওয়ার, দেশ দখল করার এবং সেটা তিনি করেও ছিলেন। বাঙালি জাতি তখন দেখেছে কিভাবে জাতির পিতার ছবি ও নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তারাই ৭৫ এর পরবর্তীতে জাতির পিতার নাম মুখে নিতে দেয়নি। ইতিহাস বিকৃত করা, ইতিহাসকে মুছে ফেলা, ইতিহাসকে হরণ করেছিলেন এই চক্রান্তকারী বিএনপি জামায়াত।

যুবলীগের চেয়ারম্যান বলেন,বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে ইতিহাসকে বাংলাদেশকে জনগণের ভাগ্যকে পূর্ণ উদ্ধার করেন। আমাদেরকে উদ্ধার করেছেন কলঙ্ক ও কালিমালিপ্ত থেকে। দেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে ১৯৪৮ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু আন্দোলন শুরু করেছিলেন। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পরে অনেকেই আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তাদেরকে দমন করা হয়েছে নির্বিচারে হত্যা করে। এই ষড়যন্ত্রকারীরা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও হত্যা করেছে নির্যাতন করেছে।

তিনি আরো বলেন, ২১ আগস্ট আবার এই ষড়যন্ত্রকারীরাই বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে মানুষ হত্যা করার জন্য শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য গ্রেনেট হামলা করে। সেই স্প্লেন্ডার নিয়ে এখনো অসংখ্য নেতাকর্মী বয়ে বেড়াচ্ছেন। এই হচ্ছে বিএনপির নরকীয় রাজনীতি। তারা রাজনীতি বুঝে না, তারা বুঝে ক্ষমতা, মানুষ হত্যা। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন ছিল সেই স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন আমাদের নেত্রী। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট হামলা একই সূত্রে গাঁথা। ১৫ আগস্ট এর মাস্টার মাইন্ড ছিলেন জিয়াউর রহমান আর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ড ছিলেন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে। বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ তার ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার আগে বলে গেছেন, ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন জিয়াউর রহমান। তাই যুবলীগের দাবি জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর ফাঁসির রায় কার্যকর করার। একই পথে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরকে পুনর্বাসন ও পুরস্কৃত করেছিলেন। এজন্য যুবসমাজ ও যুবলীগের একটাই দাবি যারা এই হত্যাকারীদের পৃষ্ঠপোষক এবং যারা আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা এবং তাদের পূর্ণবাসন করে দিয়েছে সেই বেগম খালেদা জিয়াকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে। ষড়যন্ত্রের মূলহোতা হচ্ছে বিএনপি এবং জামাত তাদেরকে বিচারের আওতায় আনার জন্য যুবলীগকে সবসময় সজাগ থাকতে হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর খুনি যারা বিদেশে এখনো পলাতক আছে তাদেরকে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে বলেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান ফজলে শামস পরশ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যুবলীগ মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। করোনার প্রথম দিকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে, ঘরে ঘরে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করে গেছে। যুবলীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শেখ হাসিনার আদর্শকে অনুসরণ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ প্রমাণ করে দিবে যুবলীগের কোনো নেতাকর্মী সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি দখলদারি কোন মাদকের সাথে যুক্ত না। মানুষের উপর জুলুম করে এমন কোনো নেতাকর্মী যুবলীগের মধ্যে নাই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যুবলীগ হবে মানুষের কল্যাণের ভান্ডার। সকল ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করার পথ একটাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানুষের পাশে থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করা। আমরা যদি মানুষ মানুষের কল্যাণে কাজ করি বিএনপি-জামাতের প্রেতাত্মারা বাংলাদেশের কোন জেলায়, কোন থানা, কোন ওয়ার্ড স্থান করতে পারবে না।

স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনুদ্দিন রানা, সভা পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা। স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ সভাপতি আহাম্মদ উল্লাহ মধু, সোহরাব হোসেন স্বপন,সরোয়ার হোসেন মনা, আনোয়ার ইকবাল সান্টু,নাজমুল হোসেন টুটুল, কামাল উদ্দিন খান,সৈয়দ আহমদ,মাহাবুবুর রহমান পলাশ,যুগ্ন সম্পাদক জাফর আহমেদ রানা, ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু,মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, ইব্রাহিম খলিল মারুফ,প্রচার সম্পাদক আরমান হক বাবু, দপ্তর সম্পাদক এমদাদুল হক,অর্থ সম্পাদক ফিরোজ উদ্দিন সায়মন,উপ দপ্তর সম্পাদক খন্দকার আরিফুজ্জামান সহ মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ। এসময় মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এসআই

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: