৩৯ বছর পর শুনতে পেলেন জোয়ান

this is caption

জোয়ান মিলনে। জন্মগতভাবে বধির ছিলেন। তবে ৩৯ বছর পর বিস্ময়করভাবে জোয়ান শুনতে পেলেন। প্রথম শুনতে পেয়েছিলেন একজন নার্সের পড়ার শব্দ।

নার্স সপ্তাহের বারগুলোর নাম পাঠ করছিলেন। শুনেই জোয়ান অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন। নিশ্চয়ই এ কান্না তার আনন্দের। যার জন্ম হয়েছিল শ্রবণ প্রতিবন্ধি হিসেবে, সেই জোয়ান ভাবতেই পারেননি জীবনে কোনোদিন শুনতে পাবেন।

আবেগাপ্লুত হয়ে জোয়ান বলেন, “সে মুহূর্তটি ছিল খুবই আবেগময়ী। আমার জীবনের ব্যাপক অভিজ্ঞতার। আমি এখনো যেন তাতে কেঁপে ওঠি।”

“প্রথম শুনতে পেয়ে আমি অনেক অনেক আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়ি। সে এমন এক অনুভূতি আমি যেন কান্না আর থামাতেই পারছি না।” বলেন তিনি।

ইংল্যান্ডের গ্যাটশিডে তার জন্ম। বয়স যখন ২০ হল, জোয়ান তার দৃষ্টিশক্তিও হারিয়ে ফেলেন। এটি ছিল জোয়ানের জীবনে নির্মম ঘটনা। দুঃখের যেন তার শেষ নাই।

চিকিৎসকরা জানালেন, আশার সিন্ড্রোম নামে একটি বিরল শারীরিক সমস্যার কারণে জোয়ানের চোখের আলো নিভে যায়।

এরপর দীর্ঘ সময় তিনি চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তাতে কোনো কাজ হয়নি। তবু জোয়ান জীবনের কাছে হেরে যেতে রাজি নন। অবশেষে চিকিৎসকরা তার জন্য ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট বা কানের অভ্যন্তরভাগের শ্রবণ স্পাইরাল প্রতিস্থাপন করার চিন্তা করেন।

ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট হল, কানের ভেতেরে ধ্বনি গ্রহণের শ্পর্শকাতর নার্ভগুলোতে সংবেদনশীলতা তৈরি করার ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস পদ্ধতি।

জোয়ান ককলিয়ার প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করতে শুরু করেন। এর মধ্য দিয়ে তার কানের ভেতরের ধ্বনি গ্রহণের অতি সংবেদনশীল ইন্দ্রিয়গুলো সক্রিয় হতে শুরু করে।

জোয়ান বলেন, “প্রথম দিন সবাই রোবটিক ধ্বনি প্রকাশ করত। এবং এর ফলে আমার মস্তিষ্কে যে ধ্বনিটা তৈরি হয়, আমাকে তা শনাক্ত করতে হত।”

ইংল্যান্ডের এলিজাবেথ হাসপাতালে একটি বিশেষ চিকিৎসক টিমের চিকিৎসায় জোয়ান শ্রবণশক্তি অর্জন করেন। জন্মগত বধিরদের জন্য এটি ছিল খুবই বিরল ঘটনা।

শাতৈ/রর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: