rankmath লিঙ্ক ক্লিকে বিড়ম্বনা

লিঙ্ক ক্লিকে বিড়ম্বনা

this is caption

ফেসবুক আমাদের প্রতিদিনের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, বিশেষ করে তরুণ সমাজের কাছে। বাংলাদেশে সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে ফেসবুক নিঃসন্দেহে সবচেয়ে জনপ্রিয়। ফেসবুকে পরিবারে সদস্য, বন্ধুবান্ধবসহ বহু পরিচিত ব্যক্তি ফ্রেন্ডলিস্টে থাকে। ফলে ফেসবুকে আমরা কী করছি বা কী পোস্ট দিচ্ছি, তা সবার নজরে পড়ে।

ইদানিং ফেসবুকের কিছু আপত্তিকর পোস্ট বা স্প্যামিংয়ের কারণে অনেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। দিনে দিনে এ ধরণের পোস্ট বা স্প্যামিংয়ের ঘটনা বাড়ছে। ফলে বিড়ম্বনাও বাড়ছে।

মূলত দেশি বা বিদেশি তারকার ভিডিও, ওসামা বিন লাদেনের ভিডিওসহ বিভিন্ন ভিডিওর মাধ্যমে এই ধরনের স্প্যামগুলো ছড়িয়ে থাকে। একজন ব্যবহারকারী যখন এই ধরণের ভিডিওগুলো দেখার জন্য ক্লিক করেন তখন সেটি পোস্ট আকারে অন্য ফ্রেন্ডদের ওয়ালে শেয়ার হয়ে যায়। এবং ‘শেয়ার বাই’ হিসেবে আপনার নাম শো করে। এমনকি আপনার নাম নিয়ে এই ভিডিওগুলো আপনার ফেসবুকে আইডি থেকে ফ্রেন্ডলিস্টের বন্ধুদের ওয়ালে রিকোয়েস্ট যাবে দেখার জন্য।

এই ধরণের স্প্যামিংগুলো বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে এর মধ্যে রয়েছে,

ক্লিক জ্যাকিং

ক্লিক জ্যাকিং হলো কোনো লুকানো লিঙ্কের ওপর ক্লিক করা। সাধারণত HTML/CSS-এর ট্রিক ব্যবহার করে একটা পেজের ওপর আরেকটা পেজ লোড করা হয়। অথবা কোনো ছবি বা ভিডিওর মাধ্যমে লুকিয়ে অন্য লিঙ্ক দিয়ে দেয়া হয়। এর ফলে ফেসবুক ব্যবহারকারী কোনো কিছুতে ক্লিক করলে প্রকৃতপক্ষে তা অন্য লিঙ্কে ক্লিক হয়।

ইদানিং প্রায়ই YouTube লিঙ্ক বলে একটি থার্ডপার্টি লিঙ্ক ফেসবুকে শো করে। যখন কোনো ইউজার এই লিঙ্কে ক্লিক করেন তখন সে http://kuskaduska.blogspot.com/ এই পেজে চলে যাবেন। তখন তাকে একটি ম্যালিশিয়াস প্লাগিন ইনস্টল করতে বলবে, যার মাধ্যমে হ্যাকাররা তার তথ্য চুরি করতে পারবে।

এছাড়া অনেক সময় দেখা যায় ব্যবহারকারীকে একটা ফর্ম পূরণ করতে দেয়া হয়। প্রকৃতপক্ষে এই ফর্মের পেছনে একটি কমেন্ট বক্স লুকানো থাকে। ফলে কেউ যদি কোনো কারণে সাবমিট বাটনে ক্লিক করেন তাহলে তা অন্যের ওয়ালে এই লিঙ্কসহ আপনার কমেন্টসহ (হ্যাকারের দেয়া) ফিড হবে। এরকম আরো বহুভাবে হ্যাকাররা আপনার অনিচ্ছাকৃত ক্লিককে ব্যবহার করে আপনাকে সামাজিকভাবে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে। সুতরাং এ ব্যাপারে সবারই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

লাইক জ্যাকিং

লাইক জ্যাকিং ক্লিক জ্যাকিংয়ের মতোই। যেখানে ব্যবহারকারী নিজের অজান্তেই বা কোনো ক্লিপ দেখার জন্য জোরপূর্বক লাইক দিয়ে থাকেন। কারণ হ্যাকাররা ব্যবহারকারীকে লাইক না দিলে ভিডিওটি দেখতে দেয় না। সাধারণ ব্যবহারকারী তখন বাধ্য হয়ে ক্লিক করেন ভিডিওটি দেখার জন্য। ব্যবহারকারী লাইক দিলে অন্যের ওয়ালে তা নিউ ফিড আকারে চলে যায়। যেসব ওয়েবসাইটে এফবি লাইক বাটন আছে, সেসব সাইট থেকেও এই ধরণের আক্রমণ করা সম্ভব।

ম্যালিশিয়াস কোড বা স্ক্রিপ্টিং

এটা আরেক ধরণের স্প্যামিং, যা ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ম্যালিশিয়াস স্ক্রিপ্টিংয়ে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীকে সাধারণত আকর্ষণীয় বা লোভনীয় অফারসহ একটি লিঙ্ক দিয়ে থাকে। যখন ব্যবহারকারী ওই লিঙ্কটি ব্রাউজ করেন, ম্যালিশিয়াস স্ক্রিপ্টিংটি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের কন্ট্রোল নিয়ে নেয়। এই স্ক্রিপ্টিংটি মেজেস পাঠানো, ভিকটিমের ওয়ালে লেখা, ফ্রেন্ডের ওয়ালে লেখাসহ বিভিন্নভাবে ব্যবহারকারীর প্রাইভেসি ও ইন্টিগ্রেটি ভঙ্গ করতে পারে।

ম্যালিশিয়াস ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন

ইদানিং ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশনের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে অনেকেই এখন ফেসবুকে বিভিন্ন গেম খেলে থাকেন, এর মধ্যে ফার্মভ্যালি, সিটিভ্যালি, জিঙ্গা খুবই জনপ্রিয়। হ্যাকাররা সাধারণ মানুষের এই আসক্তিকে বা ভালো লাগাকে কাজে লাগিয়ে তাদের অনেক তথ্য চুরি করে নিয়ে যায়। ফেসবুকে অনেক থার্ডপার্টি অ্যাপ্লিকেশন আছে, যা কি না সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি স্ট্যান্ডার্ড মেনে তৈরি করা হয় না। এই নিরাপত্তা কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীর গোপনীয় ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে নেয়।

এগুলো থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য কিছু বিষয় সচেতন থাকার প্রয়োজন।

  • প্রথমত নিজেকে এই ধরণের লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত রাখতে হবে। অর্থাৎ যা কিছু সন্দেহজনক মনে হবে তা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিজের বুদ্ধি ব্যবহার হলো প্রাথমিক ও সবচেয়ে কার্যকর।
  • যদি ফায়ারফক্স ব্রাউজার ব্যবহার করেন, তাহলে NoScript add-on প্লাগিং ইনস্টল করতে হবে। ওপেরা বা গুগোল ক্রোম ব্যবহার করেন তাহলে NotScripts ইনস্টল করতে হবে। এই প্লাগিং ব্যবহারের ফলে ক্লিক জ্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে ওয়ার্নিং মেসেজ দেখতে পাবেন।
  • যদি আপনি কোনো সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করতে চান, তাহলে ব্রাউজারের ‘প্রাইভেট ব্রাউজিং’ অপশনটি ব্যবহার করুন। এখন প্রায় সব জনপ্রিয় ব্রাউজারেই প্রাইভেট ব্রাউজিং অপশনটি আছে। কিন্তু মনে রাখবেন সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করার সময় যাতে কোনোভাবেই আপনি ফেসবুকে লগইন করা না থাকেন।
  • ফেসবুক যেহেতু রিকমান্ড করেছে তাই Web of Trust (WOT) (www.mywot.com) ব্যবহার করা যেতে পারে।
    আপনার ব্রাউজারটি নিয়মিত আপডেট করুন, যাতে ব্রাউজারটি নিরাপদ থাকে।
  • এছাড়া ফেসবুকে কোনো সন্দেহজনক লিঙ্ক, ক্লিপ, অ্যাপ্লিকেশন দেখলে তা ফেসবুকে রিপোর্ট করুন (Report/Mark as Spam)।

কেবিএন/এএ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: