আবাহনীর ঝলকে বিধ্বস্ত শেখ জামাল

this is caption

জাতীয় লিগে সবচেয়ে বেশী জয়ের রেকর্ডটি ঐতিহ্যবাহী ঢাকা আবাহনীর। পেশাদার লিগের ৬টিতের মধ্যে ৪টি শিরোপাই আবাহনী দখলে। তাও হ্যাটট্রিক শিরোপা। সেই আবাহনীর কিনা দৈন্য দশা চলছে। গত দুই মৌসুমে তাদের মাঠে পারফর‍্যমান্সে খুজে পেতেই যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। তবে এ আবাহনী শুক্রবার স্বাধীনতা কাপ টুর্নামেন্টে শক্তিশালী শেখ জামালকে ২-১ গোলে পরাজিত করে সেমিতে উঠেছে। সেমিফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানের।

এই সেই আবাহনী যারা ২০০৯-১০ মৌসুমে ২৪টি ম্যাচ খেলে ২২ টিতেই জয়লাভ করেছিলো। একটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল এবং পরাজয় ছিল মাত্র একটিতে। মোট ৬৩টি গোল জড়িয়েছিল প্রতিপক্ষের জালে, আর হজম করেছে মাত্র ৮টি গোল। অর্থাৎ, গোল দেওয়া-খাওয়ার মধ্যে পার্থক্য ছিল ৫৫ !!

আর ২০০৭-০৮, ২০০৮-০৯, ২০০৯-১০ মৌসুমে হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতে নেয়। চলতি স্বাধীনতা কাপে কি তারা শক্তিশালী শেখ জামালকে হারিয়ে নিজেদের সিংহাসন পুনরুদ্ধারের ইংগিত দিলো?

কারণ দলে নাম লিখিয়েছেন পর্তুগিজ খেলোয়াড় সুয়ারেজ। এক উরুগুয়ান খেলোয়াড় সুয়ারেজের হাত ধরে ইংলিশ লিগে শীর্ষে এখন লিভারপুল। আর পর্তুগিজ সুয়ারেজ কি পারবেন ঢাকা আবাহনীকে আকাশ ছোয়ার সুযোগ করে দিতে?

এ ম্যাচের প্রথমে কিন্তু এগিয়ে ছিলো শেখ জামাল। ৩৩ মিনিটে হাইতির ফরোয়ার্ড ওয়েডসন অ্যানসেলমের গোলে এগিয়ে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে আবাহনী। একের পর এক আক্রমণে করে নীল-আকাশি শিবির। 

৫৮ মিনিটে পেনাল্টিতে ম্যাচের সমতায় আনেন সুয়ারেজ। সুয়ারেজের একটি ক্রসে হেড করেছিলেন মরিসন, কিন্তু বলটি লাগে শেখ জামালের ডিফেন্ডার রায়হান হাসানের হাতে। ফলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান সুয়ারেজ।

৬৭ মিনিট আবারো গোল করে ব্যববধান দ্বিগুণ করেন সুয়ারেজ। ঘানান স্ট্রাইকার ওসই মরিসনের বাড়ানো বলে স্কয়ার শটে গোল করেন তিনি।

জয়ে পেয়ে বেশ খুশি আবাহনীর ইরানি কোচ আলী আকবর পুরমুসলিমি। তিনি বলেন, “ছেলেরা দুর্দান্ত খেলেছে। আজ এ ম্যাচে দলের আক্রমণভাগ অসাধারণ খেলেছে। সুয়ারেজ দলে যোগ দেয়ায় আক্রমণের ধার অনেকখানি বেড়েছে। আমি আশাবাদী খেলার এই ধারাবাহিকতা পরবর্তীতেও ধরে রাখবে ছেলেরা।”

অপরদিকে পরাজয়ের ফলে বেশ চটেছেন শেখ জামালের নাইজেরীয় কোচ জোসেফ আফুসি। প্রথমেই তিনি আঙুল দুলেছেন রেফারির দিকে। তিনি বলেন, “রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত পুরো ম্যাচের চিত্র পাল্টে দিতে পারে। ম্যাচে ঠিক তাই হয়েছে। তবে খেলোয়াড়রাও ভালো খেলতে পারেনি এ ম্যাচে।”

ইয়া/রর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: