ইংল্যান্ডে ১৩ ফুটবলার গ্রেপ্তার

this is caption

স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে ফের তোলপাড় ইংল্যান্ডের ফুটবল! ফুটবল লিগের ১৩ জন ফুটবলারকে গ্রেপ্তার করেছে সেদেশের পুলিশ। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি।

প্রতিপক্ষের প্লেয়ারের পেটে ঘুষি মেরে লাল কার্ড দেখে ৭০ হাজার পাউন্ড কামিয়েছিলেন এমন সব অবাক করার মতো ঘটনা বেরিয়ে এসেছে জেরার মুখে। এমনকি রেফারির হাতে যে লাল-হলুদ কার্ড শোভা পায়, তাও এই সকল ম্যাচ জুয়াড়িদের হাতের কারসাজিতেই হচ্ছে!

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ ডিভিশনের বিভিন্ন ম্যাচে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পোর্টসমাউইথের প্রাক্তন তারকা স্যাম সোজের দাবি, “প্রিমিয়ার লিগ এবং আসন্ন ব্রাজিল বিশ্বকাপেও ফিক্সিং করানোর ষড়যন্ত্র করেছিলো তারা।”

এসব চাঞ্চল্যকর দাবি এবং এক ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডে প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ)।

তারা জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ফুটবলারদের বেশির ভাগই উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সি এই ফুটবলারদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ম্যাচে হলুদ বা লাল কার্ড দেখা থেকে শুরু করে আরও নানাভাবে ম্যাচের ফল প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে।

স্টিভ নামের এক ব্যবসায়ীকেও ধরেছে পুলিশ। এ দিন এই খবর প্রকাশের পর হইচই শুরু হয়েছে ইংল্যান্ড জুড়ে। আর ইংল্যান্ড ফুটবল সংস্থার এফ এর তরফ থেকে এক বিবৃতিতে ফুটবলারদের গ্রেফতারি এবং ফিক্সিংয়ের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে জানানো হয়েছে, তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

ইংল্যান্ডের ফুটবলে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ অবশ্য উঠেছিল গত বছরের ডিসেম্বরেই। সেই সময় তদন্তের জালে ধরা পড়েছিলেন ছয় জন ফুটবলার। যাদের মধ্যে ব্র্যাকবার্ন রোভার্সের মতো টিমের (দ্বিতীয় ডিভিশন) তারকা স্ট্রাইকার ডি জে ক্যাম্পবেলও ছিলেন। পরে গ্রেপ্তার ছয় ফুটবলারের প্রত্যেককে এ বছরের এপ্রিল মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত জামিন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরোনোর আগেই ফের গ্রেপ্তার করা হল তাদের। সঙ্গে গ্রেপ্তার হলেন আরো সাত জন ফুটবলার।

স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি এমন বিশাল আকার নেওয়ায় রীতিমতো চাপে ফুটবল লিগ। এ দিন ফুটবল লিগের এক মুখপাত্র বলেছেন, “ফুটবলারদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারটা এনসিএ আমাদের জানিয়েছে। ফিক্সিং কাণ্ডে আরো সাত জন ফুটবলার জড়িয়েছে বলেও আমরা জানি। আমাদের তরফে তদন্তে সব রকমের সাহায্য করা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে এর বেশি আর কিছুই বলতে চায় না এফ এ।”

ইয়া/রর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: