চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মহারণ

this is caption

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে চেলসি। ২২ ও ২৩ এপ্রিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম লেগের এ দুটি খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

আর দ্বিতীয় লেগের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে হবে ২৯ ও ৩০ এপ্রিল। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন লিগে শুক্রবার ড্র করে এ দুটি সেমিফাইনালের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠল অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। প্রথম লেগে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে মাদ্রিদ। কিন্তু দ্বিতীয় লেগে মেসিদের এক গোল হারিয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। এবার তাদের প্রতিপক্ষ স্পেশাল ওয়ান খ্যাত হোসে মরিনহোর চেলসি।

চেলসিকে ভাগ্যবান বললে ভুল হবে না। কারণ ২০১২-এর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ১-১ গোলে সমতার পর টাইব্রেকারে বায়ার্নকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল চেলসি। সেই ইতিহাস এবারও স্বপ্ন দেখাচ্ছে এ ইংলিশ দলটিকে।

কোয়ার্টার ফাইনালের মতো চেলসি অঘটন ঘটালে অবাক হাবার কিছুই থাকবে না। কারণ প্রথম লেগ অ্যাথলেটিকোর মাঠে হলেও দ্বিতীয় লেগ অনুষ্ঠিত হবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে, অর্থাৎ চেলসির মাঠে। তাই আরেকটি জমজমাট যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দুই দল।

তবে এ ম্যাচে আরেকটি স্নায়ু যুদ্ধ হবে দুই কোচের মধ্যেও। চেলসির কোচ হোসে মরিনহোর সুনাম আছে দলকে দারুনভাবে মোটিভেট করার, সাথে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার। অপরদিকে সুচতুর কোচ হিসেবে ইতোমধ্যেই নিজের নামের সুবিচার করেছেন অ্যাথলেটিকোর ইয়ুর্গেন ক্লপ। বার্সাকে ঠিক যে ভাবে তার দল রুখে দিয়েছে, তা দেখে অনেকেই মন্তব্য করেছে, “ইয়ুর্গেন ক্লপের কৌশলের কাছে পরাস্ত হয়েছে কাতালানরা।”

অপরদিকে লা লিগার জায়েন্ট অ্যাথলেটিকো আছে চমৎকার ছন্দে। লিগ টেবিলে শীর্ষেও রয়েছে দলটি। সেই কারণেই চেলসির সঙ্গে সেমিফাইনালে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের জোর লড়াই হবে বলে মনে করছে ফুটবল বোদ্ধারা।

অন্যদিকে প্রথম সেমিফাইনালেও জমজমাট লড়াই হবে। এফসি বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ। একদিকে জার্মান সিংহ বায়ার্ন আরেকদিকে স্পেনিস জায়েন্ট রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম লেগে ম্যাচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে থমকে গেলেও দ্বিতীয় লেগে ৩-১ গোলে ম্যান ইউকে উড়িয়ে দিয়েছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।

বুন্দেসলিগা লিগের খেলা এখনও শেষ হয়নি। ৭ ম্যাচ শেষ বাকী থাকতেই ইতোমধ্যেই বুন্দেসলিগায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। ম্যান ইউকে হারানোর পরে আরও ছন্দময় হয়ে উঠেছে পেপ গার্দিওলার দলটি। আর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরেছেন শোয়াইনস্টাইগারের মতো স্ট্রাইকার।

বুন্দেসলিগার এবারের মৌসুমে এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচে হেরেছে বায়ার্ন। ড্র করেছে মাত্র দুটি ম্যাচে। জার্মান লিগে তারা শেষ ম্যাচটা হেরেছিল ২০১২ সালের অক্টোবরে। এরপর টানা ৫৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর বায়ার্নকে পরাজয়ের স্বাদ উপহার দিয়েছে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অসবার্গ! প্রতিপক্ষের মাঠে ‘বেভারিয়ান-ডার্বি’তে ০-১ গোলে হেরেছে বায়ার্ন মিউনিখ। তাই বোঝাই যাচ্ছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা যেন আকাশ ছুঁতে যাচ্ছে এ মৌসুমে। বার্সাকে ১৪ শিরোপার ঘরে তুলে দিয়েছেন তিনি। এবার মিশন জার্মানে, প্রথম ধাপে বায়ার্নের তিনটি শিরোপা জয়ের নেপথ্যের নায়ক এ পেপ গার্দিওলা।

ওদিকে রিয়ালের জন্য বড় আঘাত হলো, সেমিফাইনালে বায়ার্নের বিরুদ্ধে ইনজুরির কারণে লড়াইয়ে অংশ নিতে পারছে না মূল অস্ত্র ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ডার্টমুন্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় লেগে হারলেও অ্যাওয়ে ম্যাচে গোলের সুবাদে শেষ চারের টিকিট পেয়েছে রিয়াল।

জয়ের ধারায় ঠিক যেন ছন্দপতন হয়েছে রিয়ালের। এল ক্লাসিকোতে বার্সার কাছে পরাজয়। আর দুর্বল কিছু দলের কাছে পরাজিত হয়ে খানিকটা মানসিক শক্তির ক্ষয় হয়েছে দলটির। আর কোয়ার্টার ফাইনালে ডার্টমুন্ডের কাছে কোন রকমে মান বাঁচিয়ে জয় পেয়েছে দলটি। তাই সুশৃঙ্খল বায়ার্ন মিউনিখের সামনে ঠিক নিজেদের দৃঢ মানসিকতা পরিচয় দিতে না পারলে, গত বারের মতো এবারও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে স্বপ্নের সলিল সমাধি হবে দলটির। 

ইয়া/আরএ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: