আবাহনীকে হারিয়ে ফাইনালে মোহামেডান

this is caption

গত বছর ফেডারেশন কাপের পরাজয় আর সর্বশেষ বাংরাদেশ প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর কাছে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিলো মোহামেডান। মধুমতি ব্যাংক স্বাধীনতা কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে মোহামেডান।

বুধবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলার প্রথম থেকেই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে সরগরম ছিলো মাঠ। তবে দুই দলের ফুটবলারদের একর পর এক ভুলের কারণে ম্যাচে গোল সংখ্যা ছিলো মাত্র একটি।

খেলার ২২ মিনিটের মাথায় আবাহনী প্রথম সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। আবাহনীর অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার প্রাণতোষ কুমার আতিকুর রহমান মিশুর ক্রসে হেড নিয়েছিলো। কিন্তু তার হেড জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি।

৩২ মিনিট কোন ভুল করেননি মোহামেডানের জাহিদ হাসান এমিলি। গোল করে সাদা-কালো শিবিরকে এগিয়ে দিয়েছেন তিনি। গোলটা আবাহনীর অধিনায়ক সুজন প্রতিপক্ষকে উপহার দিয়েছেন বললেও ভুল হবে না। কারণ তার ভুলের মাশুল হিসেবে গোলটি পায় আবাহনী লিমিটেড। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধের পরে গোল পরিশোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আবাহনী। একের পর এক সাদা-কালো শিবিরে আক্রমণ করে তারা। তবে স্ট্রাইকারদের ভুলের কারণে কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে আকাশী-নীল শিবির। জাতীয় লিগে সর্বাধিক চারটি শিরোপাধারীরা ঠিক যেভাবে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে চমক দেখিয়ে পরাজিত করেছিলো প্রতিপক্ষ দলকে, সেই আবাহনীকে যেন খুঁজে পাচ্ছিলো না সমার্থকরা এদিন।

এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে খেলায় কিছুটা ছন্দপতন হয় মোহামেডানের। এ সুযোগে বেশ ক’টি আক্রমণ চালায় আবাহনী। কিন্তু স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় গোল বঞ্চিত হয় চারবারের লিগ চ্যাম্পিয়নরা। ৫১ মিনিটে মোহামেডানের ডি বক্সে বল পেয়েও হেড নিতে ব্যর্থ হন ওসেই মরিসন। পরের মিনিটে ওয়ালী ফয়সালের ক্রস থেকে বল পেয়ে তিনি আবারো তা বাইরে মারেন। ৭৬ মিনিটে মরিসন বল বাড়িয়ে দিলেও তাতে পা লাগাতে ব্যর্থ হন আউদু ইব্রাহিম।

খেলার ৮০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার আরো একটি সুযোগ এসেছিলো সাদা-কালোদের। এসময় সবুজের ক্রস থেকে বল পেয়ে হেমন্তের শট মাঠের বাইরে চলে যায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়াতে ১-০ গোলের জয় নিয়ে স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছে যায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।

ম্যাচ শেষে মোহামেডানের পর্তুগিজ কোচ রুই ক্যাপেলা বলেন, “এটা ছিল বেশ কঠিন ম্যাচ। জয়ের সম্ভাবনা উভয় দলেরই ছিল ফিফটি-ফিফটি। আজ মোহামেডানের প্লেয়াররা দারুণ পারফর্ম করেছে ও প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। আবাহনীও একাধিক গোল করার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু আমাদের ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় সফল হয়নি। ভাগ্যও ছিল আমাদের পক্ষে। এগুলো খেলারই অংশ।”

আবাহনীর ইরানি কোচ আলী আকবর পোরমোসলেমি বলেন, “আমরা ভাল খেলেছি। গোলের সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু গোল করতে পারিনি। প্রতিপক্ষের সাতজন খেলোয়াড় ডিফেন্সে নেমে খেলেছে। এটা নেগেটিভ ফুটবল। আমরা গোল খেয়েছি ডিফেন্সের ব্যর্থতায়। দলের প্লেয়ারদের খেলা দেখে মনে হয়েছে তারা ফাইনালে খেলার মতো উজ্জীবিত নয়!”

ইয়া/আরএ

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: