টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারণ আজ

করোনা ভাইরাসের কারণে এ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে অনেকগুলো ক্রিকেট সিরিজ। তাতে কমবেশি ক্ষতিও হয়েছে অনেক ক্রিকেট বোর্ডের। কিন্তু বড়ো একটা ধাক্কা আসবে যদি এ বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাঠে না গড়ায়। বেশির ভাগ ক্রিকেট বোর্ডের আয়ের বড়ো উৎস এই বিশ্বকাপ বাবদ আইসিসি থেকে পাওয়া বরাদ্দ।

অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এটা সময় মতো হবে, বাতিল হবে, নাকি পেছাবে; এই সিদ্ধান্ত আজই হয়ে যাওয়ার কথা। আজ ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে আইসিসি বোর্ড। এ ছাড়া আইসিসির চেয়ারম্যান নির্বাচন, ভারতের সঙ্গে আয়কর ইস্যুর মতো বিষয়ও থাকছে আজকের আলোচনায়।

আইসিসির আজকের সভার দিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে চেয়ে থাকবে ভারত। কারণ, পরের বছরই ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়ার আয়োজনটা পেছালে ভারতের আয়োজনও পেছাবে। ফলে তারা আজকের সভার দিকে তাকিয়ে আছে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড, বিসিসিআইয়ের কোষাধ্যক্ষ অরুন ধামাল পিটিআইকে বলেছেন, ‘আগে আইসিসিকে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। এখন পর্যন্ত এবারের আসর নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তো আসেনি। হতে পারে যে, ভারত ২০২১ সালে আগের সূচিমতোই বিশ্বকাপ আয়োজন করল। আর অস্ট্রেলিয়া ২০২২ সালে একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করল। আবার উলটোটাও হতে পারে। কিন্তু সিদ্ধান্ত যাই হোক, এর সঙ্গে মিল করে আবার দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোর সূচি ঠিক করতে হবে।’

আইসিসি একাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারছে না। এই সময়ের আলোচ্য তিনটি ইভেন্ট—দুটি বিশ্বকাপ ও আইপিএলে বিপুল বিনিয়োগ করে বসে আছে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান স্টার ইন্ডিয়া। ফলে আজ বোর্ড সভায় তাদের মতামতও খুব গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।

আজকের আইসিসি সভায় পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে। ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করার পরও টানা দুই মেয়াদে আইসিসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেন ভারতীয় আইনজীবী শশাঙ্ক মনোহর। অবশেষে তিনি জানিয়েছেন, তৃতীয় দফায় আর এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। বোর্ডও তার এই মত মেনে নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে নতুন চেয়ারম্যান পেতে যাচ্ছে আইসিসি।

মনোহরের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হবে এই জুনেই। ২০১৬ সালের মে মাসে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আইসিসির প্রথম স্বাধীন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন খ্যাতিমান এই ভারতীয় আইনজীবী।

নতুন চেয়ারম্যান পদে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের কলিন গ্রেভস এবং বিসিসিআইয়ের সৌরভ গাঙ্গুলির নাম শোনা যাচ্ছে। এমনকি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এহসান মানিও আবার লড়াই করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী একজন হলে নির্বাচন হবে না।

বিসিসিআই এখনই পরিষ্কার করতে চাইছে না যে, সৌরভের নাম তারা আনবে কি না। ধুমাল বলেছেন, ‘ব্যস্ততা কিসের? আগে তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া ঘোষণা করুক। তারপর তো একটা সময় পাওয়া যাবে। তখন আমরা বিবেচনা করব।’

এ ছাড়া বিসিসিআইয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিষ্পত্তি না হওয়া আয়কর ইস্যু নিয়ে আজকের সভায় চূড়ান্ত একটা সিদ্ধান্ত আসতে পারে। শশাঙ্ক মনোহর বিদায়ের আগে এটা নিষ্পত্তি করে যেতে চান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: