লালার বিকল্প প্রস্তাব টেন্ডুলকারের

অনিল কুম্বলের নেতৃত্বাধীন আইসিসি ক্রিকেট কমিটি বলে লালা ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পর থেকেই এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত আসছে। এবার নিজস্ব মত দিলেন ভারতীয় সাবেক কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারও। তিনিও বলছেন, বল চকচকে করতে লালার ব্যবহার ছাড়া খেলাটা ম্যাড়মেড়ে হয়ে যাবে। তবে তিনি বিকল্প একটি প্রস্তাব এনেছেন। তিনি বলেছেন, টেস্টে ৮০ ওভারের বদলে প্রতি ৪০-৪৫ ওভারে একটা করে নতুন বল ব্যবহার হোক।

টেন্ডুলকার কথা বলছিলেন এক অনলাইন আলোচনায় সাবেক অস্ট্রেলীয় ফাস্ট বোলার ব্রেট লির সাথে। সেখানে তারা এই লালার ব্যবহারের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন। তারা দুই জনই একমত যে, লালার ব্যবহার করতে না পারায় বোলার-ফিল্ডাররা সমস্যায় পড়বেন।

টেস্ট ক্রিকেটের কথা বলতে গিয়ে টেন্ডুলকার বলেছেন, ‘বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে আপনি লালা ব্যবহার করতে দেবেন না। কিন্তু আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে আপনি সময় সময় ঘাম পাবেন না। আপনি কোথায় খেলছেন, তার ওপর এটা নির্ভর করে। লালা ব্যবহার করতে না পারলে খেলাটা দিবারাত্রির ওয়ানডের মতো হয়ে যাবে। দিবারাত্রির ওয়ানডে ম্যাচে দিনের অংশে খেলাটা হয় শুষ্ক আবহাওয়ায়। এরপর রাতে অনেক শিশির থাকে। ফলে খেলাটা কাগজকলমে একই রকম হলেও আসলে অনেক পার্থক্য থাকে। এখানেও তাই হবে।’

এর সমাধান হিসেবে ব্রেট লি বলছিলেন, ভিন্ন কোনো নতুন উপাদান অনুমোদন দেওয়া যেতে পারত। তিনি বলেছেন, ‘সম্ভবত সবাই একমত হয় এমন কোনো ভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। যাতে ব্যাটসম্যানরা খুশি থাকে এবং বোলাররাও খুশি হয়।’

টেন্ডুলকার অবশ্য বলছেন, বাড়তি কিছু ব্যবহার না করেও বলকে চকচকে রাখা সম্ভব। সেটা করতে হবে বলকেই বদলে ফেলে। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে উইকেট ভালো না হলে খেলার মান পড়ে যায়। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানরা যদি মনে করে যে ‘বাজে শট না খেললে আউট হব না’ তাহলে খেলা ভালো হয় না। বোলারও এরকম সময় হতাশ হয়ে ভাবতে পারে, আমাকে কেবল ধৈর্য ধরতে হবে। সে ক্ষেত্রে আপনি খেলা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে প্রতি ৪০, ৪৫ বা ৫৫ ওভারে নতুন একটা বল দিন। কারণ ওয়ানডে ক্রিকেটে আমরা ৫০ ওভার খেলি। সেখানে দুটো নতুন বল ব্যবহার করা হয়। মানে ২৫ ওভার করে একটা বল খেলা হয়। সে ক্ষেত্রে টেস্টে এটা করা যেতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: