নিজ দায়িত্বে অনুশীলন করছেন মুশফিক

বাড্ডার বেরাইদে ফর্টিস গ্রুপের মালিকানাধীন প্রায় ৪০ বিঘা জায়গায় দুইটি মাঠ রয়েছে। এতদিন মূলত ফুটবলের মাঠ হিসেবেই পরিচিত ছিল এগুলো। এবার এই সবুজ গালিচায় ক্রিকেটের ছোঁয়াও লাগল। গতকালই এখানে রানিং করেছেন, ম্যাট বসিয়ে ব্যাটিংও অনুশীলন করেছেন মুশফিকুর রহিম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যার ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি।

করোনাকালে ঘরে ফিটনেসের কাজ করলেও অনুশীলনের জন্য ব্যাকুল ছিলেন মুশফিক। ফর্টিস গ্রুপের খোলা মাঠে একাকী অনুশীলনের সুযোগ পেয়ে গেলেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে করোনায় ক্রিকেটারদের মধ্যে সবার আগে পুরোদমে অনুশীলনে নেমে পড়লেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সব সুযোগ-সুবিধা এখন ক্রিকেটারদের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। তারপরও মিরপুর রেড জোনে থাকা এখানে অনুশীলনে আসতে ক্রিকেটারদের নিরুৎসাহিত করছে বিসিবি। মুশফিক ব্যক্তিগতভাবে নিজ দায়িত্বে ফর্টিস গ্রুপের মাঠে অনুশীলন করছেন বলে জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। সেখানে বিসিবি যুক্ত নয়।

গতকাল জানতে চাইলে বিসিবির প্রধান নির্বাহী বলেছেন, ‘আমাদের সব সুযোগ-সুবিধা প্রস্তুত আছে। তারপরও আমরা নিরুত্সাহিত করি যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ করে মিরপুরের মতো জায়গায় ক্রিকেটাররা এড়িয়ে চলাই ভালো। মিরপুর একটা রেড জোনের মধ্যে আছে। কিন্তু আমাদের সবকিছু প্রস্তুত।’

মুশফিকের একাকী অনুশীলন সম্পর্কে নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘এর বাইরে কেউ যদি কোনো সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে, সেটা তার ব্যক্তিগত পর্যায়ে করছে। এটা নিজ দায়িত্বে করছে, এটাতে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নাই।’

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই মুশফিক অনুশীলন করছেন বলে আশা করেন বিসিবির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘মুশফিকের মতো সিনিয়র ক্রিকেটার সবকিছু মেনেই করছে। যদি বিসিবির বাইরে অন্য কোথাও কোনো সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে থাকে। অনেকের চেয়ে ও অনেক বেশি সতর্ক, নিরাপত্তা-সুরক্ষার বিষয়ে।’

এদিকে মুশফিকের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে সানন্দে অনুশীলনের সুযোগ করে দিয়েছে ফর্টিস গ্রুপ। যেখানে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানা হচ্ছে। ফর্টিস গ্রুপের ডিজিএম মঈনুল হোসেন গতকাল বলেছেন, ‘মুশফিক ভাই শুরু করেছেন। কোভিডের জন্য সরকার থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া আছে, সবকিছু মেনেই এখানে কাজ হচ্ছে। স্যানিটাইজ করা, গাড়ির চাকা পরিষ্কার করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় লোক এখানে প্রবেশ করতে দিচ্ছি না। প্লেয়াররা যাতে নিরাপদ থাকেন।’

অদূর ভবিষ্যতে এখানে পিচ তৈরির পরিকল্পনাও নিয়েছে ফর্টিস গ্রুপ। এজন্য বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটি ও কিউরেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তারা। মঈনুল হোসেন বলেন, ‘আমরা আসলে পরিচিত ফুটবল দিয়ে। আমাদের কখনোই পিচের প্রয়োজন পড়েনি। এখন যেহেতু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররা আসছেন, আমরা তাদের জন্য প্র্যাকটিস পিচ, খেলার জন্য পিচ করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: