পাকিস্তান সিরিজ শেষে ক্রিকেটকে বিদায় চিগুম্বুরার

হারারে, ০৭ নভেম্বর- পাকিস্তানের মাঠে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে রাওয়ালপিন্ডিতে খেলছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। এই ম্যাচসহ আর দুটি ম্যাচ, এরপর থেমে যাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জিম্বাবুইয়ান তারকা ক্রিকেটার এল্টন চিগুম্বরার পথচলা। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলে ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই জিম্বাবুইয়ান অলরাউন্ডার।

শনিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। নিজের অবসরের কারণ হিসেবে চোট এবং উঠতি ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বলেছেন এই ক্রিকেটার। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটকে দেওয়া তার বিবৃতিতে চিগুম্বুরা বলেন, ‘চোটের জন্য নিয়মিত দলকে সার্ভিস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একইসঙ্গে জাতীয় দলে নতুন তারকাদের সুযোগ দিতে অবসরের এই সিদ্ধান্ত।’

২০০৪ সালের এপ্রিলে ঘরের মাঠ বুলাওয়েতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছিলেন এই জিম্বাবুইয়ান তারকা ক্রিকেটার। অভিষেকে অবশ্য আলো ছড়াতে পারেননি এই ক্রিকেটার। ব্যাট হাতে ১৩ রান করার পর বল হাতে নিয়েছেন ৩২ রানের বিনিময়ে ১ উইকেট। ওয়ানডে অভিষেকের ১৫ দিনের মধ্যে টেস্ট অঙ্গণে মাঠে নামার সুযোগ মেলে এই ক্রিকেটারের। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কাই। হারারেতে সেই টেস্টে অবশ্য ব্যর্থ ছিলেন চিগুম্বুরা। ব্যাট হাতে দুই ইনিংসের একটিতে ডাকসহ করতে পেরেছেন কেবল ১৪ রান। বল হাতে পেয়েছিলেন ১ উইকেট।

তবে চিগুম্বুরার ক্যারিয়ারের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িত বাংলাদেশের নাম। টাইগারদের বিপক্ষে ২০০৬ সালে হয়েছিল টি-টোয়েন্টি অভিষেক। এছাড়াও ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। ওয়ানডে এবং টেস্টে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন টাইগারদের বিপক্ষে বাংলাদেশের মাঠেই। এই দুই ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি সফলও ছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। ২০১৪ সালে ১৪ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বশেষটি খেলেন টাইগারদের বিপক্ষে। ১৪ টেস্টের মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছেন ৮ ম্যাচ। যেখানে করেছেন ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৮৮ রানসহ করেছেন ৩৮২ রান। এমনকি টেস্ট ক্যারিয়ারের ২১ উইকেটের মধ্যে ১৮টি টাইগারদের বিপক্ষে। ক্যারিয়ারের একমাত্র ফাইফারও টাইগারদের বিপক্ষে, ৫/৫৪।

২০১৮ সালে একই ভেন্যুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছিলেন সর্বশেষ ওয়ানডে। ক্যারিয়ারের ২১৩ ওয়ানডের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৫টি খেলেছেন টাইগারদের বিপক্ষে, করেছিলেন ১১৯৯ রান। অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে অনেক ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন এই ক্রিকেটার।

আজকের ম্যাচের আগে পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট খেলেছেন ২৮১টি ম্যাচ। যেখানে ৫৭৬১ রানের সঙ্গে আছে ১৩৮ উইকেট। এছাড়াও জিম্বাবুয়ের হয়ে ৮০ ম্যাচে অধিনায়কত্বও করেছেন এই ক্রিকেটার। যার মধ্যে ৬২টি ছিল ওয়ানডে এবং ১৮ টি-টোয়েন্টি রয়েছে।

সূত্র: রাইজিংবিডি
আডি/ ০৭ নভেম্বর

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: