হাজার কোটি ইউরো আইরিশ কর থেকে ‘মুক্তি’ অ্যাপলের

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) আদেশ মতো এক হাজার তিনশ’ কোটি ইউরো আইরিশ কর পরিশোধ করতে হবে না অ্যাপলকে। বুধবার ইইউয়ের ওই আদেশ বাতিল করে রায় দিয়েছে ইউরোপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আদালত।
চার বছর আগে অ্যাপলের বিরুদ্ধে করফাঁকির আদেশে ইউরোপিয়ান কমিশন বলেছিল, আইরিশ কর নীতিমালায় দুইটি নিয়মের সুযোগ নিয়ে লাভবান হয়েছে অ্যাপল। এতে দুই দশক ধরে অ্যাপলের ওপর কর এসেছে অনেক কম। ২০১৪ সালে অ্যাপলের মূল আইরিশ ইউনিট ০.০০৫ শতাংশ কর দিয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য অনেক কম।

২০১৬ সালের অগাস্টে কমিশন সিদ্ধান্ত টানে, আয়ারল্যান্ডের ১৯৯১ এবং ২০০৭ সালে কর কর্তৃপক্ষের দুই নিয়মে দুই দশকের বেশি সময় ধরে অ্যাপলের ওপর আদায়যোগ্য কর কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখা হয়েছে, যা বেআইনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে প্রতিযোগিতার নীতিমালার উল্লেখ করে বিচারক বলেছেন, “জেনারেল কোর্ট আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করছে, কারণ কমিশন প্রমাণ করতে পারেনি যে, উল্লিখিত নিয়মগুলো অন্যায় সুবিধা দেওয়ার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল, এই অভিযোগ প্রমাণের জন্য যেটি গুরুত্বপূর্ণ।” – রয়টার্স উল্লেখ করেছে প্রতিবেদনে।

ইউরোপীয় প্রতিযোগিতাবিষয়ক কমিশনার মারগ্রেথ ভেস্টাগার অনেকটা ধর্মযুদ্ধের মতোই একের পর এক আঘাত এনেছেন ইউরোপে ব্যবসা করা আন্তর্জাতিক কর্পোরেশনগুলোর ওপর। তার মূল লক্ষ্য ছিল বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্বাভাবিক প্রভাব কমিয়ে আনা। একদিকে তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া প্রভাব অন্যদিকে অস্বাভাবিকভাবে পাওয়া আর্থিক সুবিধা ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

এখন এই রায়ের ফলে নেদারল্যন্ডে আইকিয়া, নাইকি এবং লুক্সেমবার্গে হুটামাকি’র চুক্তিকে করা ভেস্টাগারের চ্যালেঞ্জ দুর্বল হবে বা পিছিয়ে যাবে বলে উঠে এসেছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে। পুরানো ডাচ কর হিসেবে স্টারবাকসকেও তিন কোটি ইউরো পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিলেন ভেস্টাগার। তার ওই সিদ্ধান্তটিও গত বছর বাতিল করেছে এই একই আদালত।

করোনাভাইরাস মহামারীতে ধসে পড়া অর্থনীতিতে সুদসহ এক হাজার চারশ’ কোটি ইউরো আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতির জন্য সম্ভবত উপকারীই হতো। তারপরও কমিশনের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ডাবলিন। কারণ, স্বল্প কর আদায়ের এই প্রথাই চালিয়ে যেতে চায় দেশটি। কম করের কারণেই আড়াই লাখ বহুজাতিক কর্মী দেশটিতে ব্যবসায় আগ্রহী হয়েছে।

অর্থ আদায় না হওয়ার কারণে বিরোধী দলগুলোর কড়া সমালোচনায় পড়তে পারে আয়ারল্যান্ড সরকার। দেশটির বাজেট ঘাটতির অন্তত অর্ধেক পূরণ হতো এই অর্থ থেকে, যা চলতি বছরের জিডিপির ১০ শতাংশ।

আর/০৮:১৪/১৫ জুলাই

সূত্রঃ দেশে বিদেশে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: