ওপেনএআই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে মাইক্রোসফট, ব্যাপারটি পছন্দ হয়নি ইলন মাস্কের

ওপেনএআই এর তৈরি ‘ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ ‘জিপিটি-৩’ ব্যবহারের বিশেষ অনুমোদন নিয়েছে মাইক্রোসফট। ব্যাপারটি পছন্দ হয়নি ওপেনএআই সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের।

মূলত অলাভজনক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাইক্রোসফটের চুক্তি করার ব্যাপারটি নিয়েই সমালোচনা করেছেন মাস্ক। বৃহস্পতিবার এক টুইটে তিনি লিখেছেন, “এটি দেখে উন্মুক্তের বিপরীতটি মনে হচ্ছে। ওপেনএআই মাইক্রোসফটের কাছে বন্দী হয়ে গেলো।”   
জিপিটি-৩ ওপেনএ্আইয়ের তৈরি এমন একটি ‘ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ যা রক্তমাংসের মানুষের মতোই টেক্সট মেসেজ লিখে দিতে পারে। ওই প্রযুক্তিটি ব্যবহারের জন্য প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে বিশেষ লাইসেন্স নিয়েছে মাইক্রোসফট।
অথচ ওপেনএআইয়ের প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য লেখা রয়েছে, “ডিজিটাল বুদ্ধিমত্তাকে এমন রাস্তায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাতে মানুষের মানবজাতি হিসেবে উপকার হয়, আর্থিক লাভ সৃষ্টি করার কোনো সীমাবদ্ধতা যাতে না থাকে।”
মঙ্গলবার এক ব্লগ পোস্টে মাইক্রোসফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা কেভিন স্টক জিপিটি-৩ ব্যবহারের লাইসেন্স নেওয়ার খবর জানান। ওই ব্লগ পোস্টে তিনি লিখেছেন, তাদের প্রতিষ্ঠান “উন্নত এআই সমাধান তৈরি ও সরবরাহ করে তা ভোক্তাদেরকে দিতে এই কারিগরি উদ্ভাবন ব্যবহার করবে।”
আরও পড়ুন: পাবজি মোবাইলের ইরাঙ্গেল ২.০ ভার্সনে নতুন ও রোমাঞ্চকর যা থাকছে
স্কট আরও বলেছেন, ওপেনএআইয়ের অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেইস প্ল্যাটফর্ম (এপিআই) থেকে জিপিটি-৩ এর প্রবেশাধিকার পাওয়ার ব্যাপারটি আগের মতোই থাকবে।
কিন্তু মাস্ক ও অন্যান্যরা এই আশ্বাস বাণীতে ভরসা পাচ্ছেন না। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভবিষ্যত দ্বন্দ্ব এড়ানোর কথা বলে ওপেনএআইয়ের চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছিলেন মাস্ক। কারণ ওই সময়টিতেই মাস্ক নেতৃত্বাধীন আরেক প্রতিষ্ঠান টেসলা এআই উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া শুরু করেছিলো।
সাম্প্রতিক চুক্তির কারণে জিপিটি-৩ এর ঠিক কতোটুকু মাইক্রোসফট ব্যবহার করতে পারবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।  
বরাবরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে কড়া সমালোচকদের মধ্যে মাস্ক অন্যতম। এ খাতে তার নিজেরও বিনিয়োগ রয়েছে। তবুও কোনো পদক্ষেপ ভুল মনে হলে, তা নিয়ে সমালোচনা করতে দ্বিধা করেন না তিনি।
২০১৭ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে “অস্তিত্বের হুমকি” বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন মাস্ক। আর একবার ফেইসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জ্ঞানকে “সীমিত” বলেছিলেন তিনি।
এআই প্রশ্নে মাস্ক দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন বিল গেটসের সঙ্গেও। মাস্কের ভাষ্যে, এআই প্রযুক্তির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ হবে। এ ব্যাপারে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন গেটস।
গেটসের ভাষ্যে, “যে ধরনের নিয়ন্ত্রণ সমস্যা নিয়ে মাস্ক উদ্বিগ্ন, তা কিন্তু এমন কিছু নয় যা খুব শীঘ্রই দেখতে পাবে মানুষ। এই জায়গাটিতেই ইলন আর আমার মতপার্থক্য। আমাদের এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, আবার একটা সময়ে যে এরকম পরিস্থিতি সামনে আসতে পারে, সে সত্যটি উদাসীনের মতো এড়িয়ে যাওয়ারও কিছু নেই।”
এন এইচ, ২৮ সেপ্টেম্বর

সূত্রঃ দেশে বিদেশে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: